Menu Close

ট্রেন ভ্রমনঃ রোমাঞ্চকর এক ভ্রমণ অভিজ্ঞতা

ট্রেন ভ্রমন

ট্রেন ভ্রমন আমার স্বপ্নে সব সময় কড়া নাড়তো। কখন ট্রেন ভ্রমন করবো। ইশ বাস, কার, নৌকা সব কিছুতে জার্নি হইছে কিন্তু ট্রেন ভ্রমন কবে হবে। ট্রেনে যে ভ্রমন করতেই হবে। বন্ধু -বান্ধবের মুখে শুধু শুনি গল্প তারা বাসায় যায় ট্রেন ভ্রমন নাকি খুব মধুর ক্লান্তির। জানালা দিয়ে প্রকৃতির প্রানবন্ত হাওয়াও ফ্রিতে মিলে তার উপর প্রকৃতির উপচে পড়া সৌন্দর্য দেখতে পাওয়া যায়। গ্রাম-বাংলা বা শহর খুব কাছে থেকে তার দৃশ্য উপভোগ করা যায়।তাই একদিন ভ্রমন করতে বেরিয়েই পড়লাম।

ট্রেন ভ্রমনের প্রতি এতটা আকর্ষনের কারণ হয়ত সবার থেকে অতিরিক্ত জানা। যত বার কারো ভ্রমনের গল্প শুনেছি, ততবারই অভিভুত হয়েছি। আজ হয়ত আমার ভ্রমনের গল্পও আপনাকে অভিভুত করবে। যদিও সেভাবে গুছিয়ে লেখা হয়না আমার। যা বলতে চাই, সেটা মনের ভেতরেই তো গোছাতে পারিনা ঠিক মতো, লিখে প্রকাশ করা তো ফার মোর টাফ।

আমার ট্রেন ভ্রমনের অভিজ্ঞতা

আমি আর আমার দুইটা ফ্রেন্ড কে নিয়ে বেড়িয়ে পড়লাম ট্রেন ভ্রমনের উদ্দেশ্য নিয়ে। আমরা রিক্সা নিয়ে ঢাকা কমলা পুর স্টেশনে পৌঁছালাম। যেহুতু স্টেশন থেকে বেশি দূরে না। তাই তাড়াতাড়ি ই পৌঁছালাম। তখন বাজে সকাল ৭ঃ ০০। যেহুতু তিস্তা এক্সপ্রেস আমরা সকালের ট্রিপেই রওনা দিলাম। ৭ টা বেজে ৩০ মিনিটে ট্রেন।তাই তিন ফ্রেন্ড ত্রিশ মিনিট আগেই পৌঁছালাম। যেহুতু ভ্রমন আবার ব্যাক করবো তাই নিজেদের প্রয়োজনীয় যা লাগে ব্যাগে নিয়ে নিছি।কিছুক্ষণ স্টেশন টা ভাল করে ঘুরে ঘুরে দেখে নিলাম। ৭ টা বেজে ৩০ মিনিটে ট্রেন টা ছেড়ে দিলো।

আমরা ঠিক ঠাক মত জায়গায় বসে নিলাম। যদিও প্রথম ট্রেন ভ্রমন সিট খোঁজাখুঁজির একটা ব্যাপার ছিল। তারপরও, টিকেট কাটা, তাড়াহুড়ো করে ট্রেনে ওঠা এবং সিট নেওয়া, সব কিছু উপভোগ করেছি আমি।

ভ্রমন যাত্রার কারণ ও স্থান নির্ধারণ

ঢাকা টু জামালপুর ভ্রমন, ধারনা করা হয়, হযরত শাহ জামাল (র.) এর নামানুসারে এই শহরের নামকরণ হয় জামালপুর। জামালপুর জেলা বিখ্যাত খাবার ছানার পোলাও ও পায়েস এবং রসমালাই। কখনো গেলে দেখবেন, এখানে বুডির দোকান বলে একটি দোকান আছে যাদের রসমালাই সবথেকে ভালো, কাউকে রসমালাই এবং মিষ্টি কই পাওয়া যায় জিজ্ঞেস করলে  কোনো প্রকার হেজিটেশন ছাড়া হয়ত  বুড়ির দোকানের নামই বলবে। এখানকার প্রায় সকলেই বুড়ির দোকান নামেই চেনে দোকানটা। কিন্তু দোকানের সাইনবোর্ডে দোকানের নাম লেখা আছে “বুড়ি মা” দোকান। এইকটা বিষয় জেনে অনেকটা অবাক হই যে, এই দোকনটির বয়স ৭০ বছরেরও বেশি।

জামালপুরের গরুর খাঁটি দুখের ছানার পায়েশ এবং মিষ্টি এই এলাকায় নামকরা খাবার। এই মিষ্টির সুনামের কারণেই বুড়ির দোকানটির সুনাম আজো অক্ষুন্ন আছে।

গল্পটা শুনেছিলাম আমি এক বন্ধুর কাছে, যার কারণে আমার এই জায়গার প্রতি আলাদা একটা টান কাজ করতো। সেই বন্ধুরটির বাড়ি ছিলো এই জামালপুরেই, তাছাড়াও ময়মনসিংহ বিভাগের মধ্যে জামালপুর, ময়মনসিংহ আমার আত্নিয় ও ছিল সব মিলিয়ে জামাল পুর ভ্রমনের সিদ্ধান্ত নেই এবং আমি জানি আমি সঠিক সিদ্ধান্তটিই নিয়েছিলাম।

প্রাকৃতিক দৃশ্য ও মানুষের জীবন যাত্রার বর্ননা

সময় টা ছিল বেশ গরমের।আর সকাল সকাল ভ্রমন একটা ফ্রেশ ভ্রমন ছিল। সূর্যের আলো আর রোদের প্রখরতা যদিও সময় খানিক পর পর বেড়ে চলছিল। তবুও জানালার পাশে বসে ট্রেন ভ্রমন যেন এক অন্যরকম সুখকর ছিল। এতদিনের ইচ্ছে তো আমার পূরণ হয়েছে। মাঝে বিশাল মাঠ দেখা যায়, মাঠের খানিক মাঝে মাঝে পাকা ধানের মাথাচাড়া দিয়ে জেগে ওঠা দেখা যায় আবার মাঝে মাঝে পাকা ধান কেটে নেওয়ায় ব্যস্ত কৃষকের ঘাম জড়িত ছোট ছোট দেহগুলি দেখা যায়। তারা যেন খুব ব্যস্ত।

রোদের প্রখরতা কিছু না। ফসল ঘরে তোলার আনন্দে তারা আত্নহারা হয়ে আপন মনে পাকা ধান গুলি কেটে চলেছে।কেউ বা গাছের ছায়ায় গিয়ে একটু বিশ্রাম নিচ্ছে। অদূর দূরে দেখা যায় সবুজের সমারোহ ও। সারি সারি নারিকেল গাছ পার করছি রাস্তার ধারে।গুনলেও যেন ট্রেনের গতির সাথে পেড়ে উঠছি না। তার কিছু দূর পার করার পর দেখলাম এক্টা খালের মত নদী বয়ে চলেছে তার ধার দিয়ে সারি সারি নৌকা বাঁধা। সব কিছু যে নৈসর্গিক লীলাভূমি লাগতেছিল।তারপর থেকে একবার মাঠ সবুজ ভূমি মাঠ সবুজ ভূমি চলে ছোট ছোট খাল চলে আসতেছিল। ছোট একটা ডোবার মত জায়গায় একটা মা আর বাচ্চা জাল নিয়ে মাছ ধরছে। আমি আর আমার ফ্রেন্ড রা মিলে হেসেই দিলাম। ওখানে মাছ আছে?

মোট কথা আমরা সব গুলি দৃশ্য উপভোগ করেছি। জামালপুর জংশনে নামার আগে ফ্রেন্ড টারে কল করলাম সে আগেই সেখানে উপস্থিত ছিল।তারপর আমরা সেখানে পৌঁছালাম। নিজেদের মত সেখান কার জায়গা গুলি ঘোরা বিখ্যাত খাবার খাওয়া থেকে বিখ্যাত জায়গায় ঘুরে বেড়ালাম। ট্রেন ভ্রমন কেন করবো।

সারকথা

ট্রেন ভ্রমন আমার মতে পরিবেশ বান্ধব। এখানে অযথা ক্ষতিকর কোন দিক নেই।কাছে থেকে সব কিছু উপভোগ করা যায়।নিরাপদ ভ্রমন যদি বলি তা হল ট্রেন ভ্রমন। ক্ষয়-ক্ষতি বা এক্সিডেন্ট এর ভয় কম। সব কিছু মিলিয়ে ট্রেন ভ্রমনের অভিজ্ঞতা জমকালো ছিল। এখন থেকে নিয়ত করেছি সময় হইলে চলে আসবো ট্রেন ভ্রমনে আর কাছে থেকে প্রকৃতি কে উপভোগ করতে।

Related Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *