Menu Close

সাফল্য ও ব্যর্থতা থেকে শিক্ষাঃ জীবন বদলে দিবে এই লেখাটি

সাফল্য ও ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা

আজকে আমি সাফল্য ও ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা নিয়ে জীবনে কিভাবে সামনে যাবেন সে বিষয়ে আমার ধারনা আপনাদের সাথে শেয়ার করবো। হতে পারে লেখাটি আপনার জীবন বলদে দেবে। হাতে ৫ মিনিট সময় থাকলে লেখাটি মিস করবে না আশা করি। অন্তত আমার ভুল শুধরে দিতে হলেও লেখাটা পড়ার অনুরোধ রইলো 🙂 ।  সফলতার জন্য আপনাকে তিন (৩) টি মূল্য দিতে হবেঃ

  • স্যাক্রিফাইস
  • কঠোর পরিশ্রম
  • স্টেডিনেস বা একাগ্রতা

স্বপ্নকে বাস্তব হতে দেখার জন্য ব্যর্থতার পর ও কাজ করে যাওয়া বলেছেন -ফ্র্যঙ্ক লয়েড (আমেরিকান লেখক ও শিল্পি)। জীবনে যেমন সফলতার দরকার আছে তেমনি ব্যর্থতার ও দরকার আছে। সবাই সফল হয়না কিন্তু বাবার ব্যর্থতারর তিক্ত স্বাধ নিয়েই সাফল্য দেখতে পায়। এই সাফল্য এবং ব্যর্থতার ডেফিনিশন নিশ্চয়ই এই কথাগুলোতেই বুঝে গেছেন।

বাস্তব জীবনের অভিজ্ঞতা থেকে তুলে ধরবো

আপনি সবাই কে ভাল রাখতে পারবেন না। সবাইকে খুশি করতে পারবেন না,  সবাই আপনার মন কে বুঝবে না। সবাই আপনাকে ভাল বলবে না। সবাই আপনার সহজ সহজ কথাকে সহজ বলে নিবে না। কিভাবে নিবে না আসুন বোঝাই। ভালবাসার মানুষের কথা বলি। আপনি একজন কে খুব ভালবাসেন। তার পরিবারে মা-বাবা, ভাইবোন সহ অনেক সদস্য থাকবে।

আপনি প্রত্যক সদস্যর কাছে এক হবেন না। এমন কি আপনার ভালবাসার মানুষের কাছেও না। ভিন্ন ভিন্ন লোক, ভিন্ন ভিন্ন অবস্থান হবে আপনার কাছে। কেউবা আপনার কথা গুলি বুঝতে পারবে যে আপনি কি বলতে চাইছেন বা আপনি কেমন। কেউবা ভাষা না বুঝে আপনাকে যা তা ভেবে নেবে। কেউবা এই দুয়ের মাঝামাঝি। কেউবা কিছুই মনে করবে না। কিন্তু সব চেয়ে বেশি যেটা আপনাকে পিছিয়ে নিয়ে যাবে সাফল্যর দুকদম দূরে সে হল আপনার ভালবাসার মানুষ আপনার প্রিয়জন। আমার জীবনে প্রিয়জন ছিল। পৃথিবী তে বাবা-মায়ের পরে যার স্থান সেই প্রিয়জন।

কিন্তু আমি দেখেছি সেই প্রিয়জন টাই আমাকে বার বার ব্যর্থ প্রমাণ করে।কিভাবে ওই যে বললাম তার সাথেও তার পরিবারের অনেক লোকজন থাকে সেইখান থেকে সেই জায়গা থেকে। আপনি নিজের সব টুকু দিয়ে আপনার প্রিয়জন বা প্রিয়জনের প্রিয়জনদের ভাল রাখতে যাবেন ঠিক তখন ই ঘাত -প্রতিঘাতে আপনার উপর চাপ আসবে প্রিয়জনের পক্ষ থেকে।

আপনার ভালবাসার মানুষ আপনাকে বার বার নিচে নামিয়ে আপনার দাম টাকে কমিয়ে একদম শূণ্যর কোঠায় পৌঁছে দিবে। আপনার মাঝের ট্যালেন্ট আপনার মাঝের ভালমানুষিকতা, আপনার মাঝের সরলতা আপনার মাঝের সুখটাকে বিভিন্ন ভাবে জিরোর কোঠায় এনে আপনাকে অপমান করবে। তখন আপনার মনে হবে আপনি আসলেই যোগ্যতা হীন ব্যক্তি।

আপনাকে নিজের এবং পারিপার্শ্বিক অবস্থা নিয়ে কঠিন কঠিক কথা শোনাবে যাতে আপনি আপনার নিজের উপর যে কনফিডেন্স, আত্নবিশ্বাস সফলতার যে উচ্ছলতা আপনার মাঝে থাকবে তা দিন দিন ভেঙে চূড়ে চূরমার হয়ে যাবে। আপনি খালি হয়ে যাবেন। আপনার ভিতর টা পুরো খালি হয়ে যাবে। আপনি যে সফলতার উচ্ছলতা নিয়ে চার কদম এগিয়ে যাবেন তার দশ কদম আপনাকে পিছিয়ে দিবে। হ্যাঁ এটাই সত্য।

আপনি যে জায়গায় থাকবেন সেই জায়গা নিয়ে কথা বলবে, আপনার বিভিন্ন ট্যালেন্ট থাকলে তার দোহায় দিয়ে বলবে এইগুলা থাকলেই শুধু হয়না কিন্তু আপনি তো জানেন ঠিক সেই লোক গুলা ব্যতিত ও জীবনে আরো লোক থাকে যাদের কাছে আপনার ভালমানুষিকতার দাম আছে তারা আপনার ট্যালেন্ট বোঝে আপনি ক্যমন বোঝে তবে কি দরকার সেইসব মানুষ দের জীবনে রাখা যারা আপনাকে সফলতা থেকে পিছিয়ে দায় উচ্ছলতার শূন্যর কোঠায় নিয়ে পৌঁছে দেয় তাদের।আপনি দিন দিন নিজের লক্ষ্য থেকে পিছে চলে ছিটকে পড়বেন বহুদূরে।

হাতরিয়েও পাবেন তা সময় চলে গেলে। জীবনে সেইসব মানুষ দের দরকার যেইসব মানুষ আপপনার লক্ষ্য পূরনে সাথে থাকে লক্ষ্য নষ্ট করবার মানুষ নয়। যদিও সফলতা আসে ব্যর্থতা থেকে তবুও কয়জন ঠিক কয়জন উঠে দাঁড়াতে পারে এমন যারা লক্ষ্য থেকে শূন্যর কোঠায় গিয়ে পৌঁছায়। বেশির ভাগ ই ডুবে যায় তলিয়ে যায়। খুব কম সংখ্যক হাতরিয়ে উপরে ওঠে।আর সফল হয়।তাই ভালবাসা নামক প্রিয় মানুষ টাকে সাইডে রাখতে হবে।এখন তোমার প্রিয় কিন্তু তুমি সফল হও প্রিয় থেকেও প্রিয় হবে।প্রিয় থেকেও প্রিয় পাবে।কারণ লোক সফলতাকেই সালাম করে।সফলতার ই পা চাটে।

৩ টি অতি অপ্রিয় উপদেশ

উপদেশ আমরা বাঙ্গালিরা দিতে পারি এইটা আপনি আমি সবাই জানি ভালভাবেই :D। তবে আপনাকে এই তিনটি উপদেশ মানতেই হবে যদি সুখি-সফল জীবন উপভোগ করতে চানঃ

  • নিজেকে প্রাধান্য দিনঃ নিজের ইচ্ছা অনিচ্ছা কে প্রাধান্য দিন। সব সময় নিজের মন কি বলে আপ্নি নিজে কি চান এইসবে গুরুত্ব দিন। কারণ সব কিছুর আগে নিজেকে ফিট রাখা,নিজের ইচ্ছা কে প্রাধান্য দেওয়া নিজে সুস্থ থাকা এইসবের প্রতি নজর দিতে হবে।
  • সমালোচনা কে এডিয়ে চলুনঃ চলার পথে অনেক সমালোচনা আসবে। যেসব সমালোচনা করবে।ওইসব সমালোচনা শুনলে আপনি পুরোদমে ভেঙে পড়বেন। চলার মত শক্তি পাবেন না।কিন্তু পিছে লোকে কি বলে তাতে কান দেয় বোকারা।সমালোচনা না থাকলে নিজের ভূল গুলা ধরতে পারবেন না।চলার পথে কি ভূল করে যাচ্ছেন কি করা দরকার সমালোচনার মধ্যই বুঝতে পারবেন। এগিয়ে যাবেন পরিপূর্ণ জোশ নিয়ে।
  • ক্ষমার দৃষ্টিভঙ্গি রাখুনঃ ক্ষমা মহৎ গুন।ক্ষমা করতে না পারলে সে কখনো বড় হয়না।আপনার প্রতিশোধ নেবার কোন প্রয়োজন নেই।প্রতিশোধ আপনার সফলতা নিবে।প্রতিশোধ আল্লাহ নিবে।কিন্তু আপনি সবাই কে ক্ষমা করার ক্ষমতা রাখুন।

কঠোর পরিশ্রমি হতে শিখুন

কঠোর পরিশ্রম আমরা অনেক সময় খেলায় বা হেলায় বা টিভি দেখে বিভিন্ন ভাবে সময় অপচয় করি।দিনে একবার পড়তে বসলে বা লক্ষ্য অনুযায়ি এগুতে যা করবার দরকার সেই কাজ না করে আমরা অন্য কাজে বেশিই আগ্রহী হই। আসলে প্রত্যক টা মানুষের সাথে শয়তান আছে তাছাড়া অনেক অনেক প্রভাবের কারণে অনেক দিক থেকে পথ ভ্রষ্ট হই। মানুষ বিলাসিতা সব চেয়ে বেশি পছন্দ করে।

সহজে কোন কিছু জয় করতে চায়। যেন বসে আর শুয়ে যেন জয় আসবে। টিভি দেখা খেলাধুলা করা মনমত আরাম দায়ক কিছু করা প্রত্যেক টা মানুষের স্বভাব। কিন্তু বসে বসে জয় আসবে না নিশ্চিত। কোন খাবার খাইতে মন চাইলে নিশ্চয় পায়ে হেটে গিয়ে খাবার টা তৈরি করবার জন্য যেসব উপাদান লাগে তা কিনতে হবে তারপর সেইসব ব্যবহার করে খাবার বানিয়ে খাইতে হবে তেমনি জীবনে বড় কোন সাফল্য অর্জণ করতে চাইলে নিশ্চয় ই বড় বড় প্রতিদান দিতে হবে পরিশ্রম করতে হবে।

বিনা পরিশ্রমে যেমন পয়সা মিলে তেমনি সাফল্য ও মিলবে না। বড় বড় সাফল্য পাওয়া লোকদের জীবনি পড়লে বোঝা যাবে তারা কতবার ঠিক ব্যর্থ হয়ে সাফল্য পেয়েছে। বা তারা কতটা পরিশ্রম করে সাফল্য পেয়েছেন। কত দিন রাত খাওয়া নাওয়া ঘুম ত্যাগ করে সাধনার ফলে সাফল্য পেয়েছেন।

সাফল্য পাবার জন্য পরিশ্রমের বিকল্প নেই

যেমন জে কে রাওলিং এর কথা আমরা কে না জানি। সেই বিশ্ব বিখ্যাত বই ‘হ্যারিপটার’ বইটার রচয়িতা। যে বইটা সাফল্যর শির্ষে ছিল।এবং সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয়েছিল সেই হ্যারিপটার ক্ষ্যাত জেকে রাওলিং। তিনি গ্রাজুয়েট করে কিছুদিন বেকার ছিলেন। তার স্বামির সাথে বিবাহ বিচ্ছেদ হয়েছিল। এবং তিনি মানুষিক ভাবে ভেঙে পড়েছিলেন। তিনি সুইসাইড করার ও সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন কিন্তু অ্যমনেষ্টি ইন্টারন্যাশনাল এর সচিব হিসেবে কাজ করার সময় হ্যারিপটার বইটির ধারণা এসেছিল। কিন্তু অবশেষে বইটি লিখতে এতটাই ব্যস্ত হয়ে পড়েন যে তার চাকরিটা চলে যায়।

১২ জন প্রকাশক দ্বারা বইটি বাতিল বলে গণ্য হয় একসময় পড়ে তিনি বইটির জন্য ২৫০০ পাউন্ড চেক পেয়েছিলেন। এরকম আরো সাফল্য পাওয়া ব্যক্তিদের জীবনি ঘাটলে ব্যর্থতার অতল এবং গহীন সমুদ্র দেখতে পাওয়া যাবে। কিন্তু তাদের ইচ্ছাশক্তি আর পরিশ্রম এর বিনিময়ে একদিন সাফল্য পেয়েছেন।

ব্যর্থ না হয়ে যেন সাফল্য খুব কম মানুষ ই পেয়েছেন। ওয়াল্ট ডিজনি মিকি মাউসের জন্য পরিচিতি পেয়েছিলেন। ওয়াল্ট ডিজনি সৃজনশীল না হওয়ার কারণে এক পত্রিকার চাকরি থেকে বাদ দিয়ে দেন। পরে তিনি নিজে এ্যানিমেশন কোম্পানি তৈরি করেন। কিন্তু সেটাতেও ব্যর্থ হন তিনি ‘র‍্যাবিট’ নামক কার্টুন চরিত্র তৈরির এর কাজে অগ্রসর হন।

কিন্তু ১৯২৭ সালে জানায় মিকিমাউসের ধারণাটা তার কখনোই কাজ করবে না কারণ বিষয়টা ইঁদুর বিষয়ের ছিল। ১৯৩৩ সালে তিনি বিতর্কিত হয়ে বাতিল পড়েন কারণ সবাই ভেবেছিলেন ডিজনির কাছে আকর্ষণীয় কোন চরিত্র নেই। পরে সেই কার্টুন পিনোকিঊ নামে পরিচয় লাভ করে যা প্রথম রিলিজেই মিলিয়ন ডলার আয় করে। তাই সাফল্য পাবার জন্য পরিশ্রমের বিকল্প নেই।

Related Posts