Menu Close

লাই-ফাই (LI-FI) প্রযুক্তি নিয়ে বিস্তারিতঃ লাইটের মাধ্যমে কিভাবে ডাটা ইউজ করা হয়?

লাই-ফাই (LI-FI) প্রযুক্তি কি

Li-fi আর Wi-fi এক জিনিস নয়। অনেকে একই ভেবে ভুল করে থাকেন। Light এর মাধ্যমে যে ইন্টারনেট পাওয়া যায়, তাকে Li-fi বলে। আজকের পর্বে আমরা Li-fi কী,লাইফাই এর ইতিহাস, এটি কীভাবে কাজ করে, লাইফাইয়ের সুবিধা সমূহ, Li-Fi কখন আসবে এবং Wi-fi Vs Li-fi নিয়ে আলোচনা করব। শেষ পর্যন্ত থেকে আমাদের লিখাকে স্বার্থক করুন।

লাই-ফাই (LI-FI) প্রযুক্তি কি?

Li-fi এর পূর্ণ-রুপ Light-Fidelity. Li-Fi হচ্ছে একটি তারবিহীন অপটিক্যাল নেটওয়াকিং প্রযুক্তি, যা লাইট বা বাতির মাধ্যমে ডাটা আদান-প্রদান করে। এটি ওয়াই-ফাই থেকে ১০০ গুণ দ্রতগতির হবে বলে মনে করা হয়। তবে এখনও প্রকৃত গতি নিশ্চিত নয়। লাই-ফাই তে মূহুর্তের মধ্যে চোখের পলকে নাটক, গান ইত্যাদি ডাউনলোড হয়ে যাবে।

আমরা জানি যে, আলোর মাধ্যমে ইন্টারনেট সংযোগ আমরা পেয়ে থাকি। বর্তমানে আমরা যে Wi-fi ব্যবহার করি, তা অপটিকাল ফাইবারের কাঁচের মাধ্যমে প্রবাহিত হয় বিধায় প্রায় ৪০% গতি কমে যায়। অন্যদিকে, ঘরের বাতির মাধ্যমে Li-fi ব্যবহার করা যাবে। তাই li-fi এর গতির সামনে wi-fi কিছুই না বলে ধারণা করা হচ্ছে।

লাইফাই প্রযুক্তি
লাইফাই প্রযুক্তি

লাইফাই প্রযুক্তির ইতিহাস

ইডেনবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর হ্যারাল্ড হাশ’ Li-fi এর উদ্ভাবক। তিনি সর্বপ্রথম ২০১১ সালে লাই-ফাইকে সবার সামনে তুলে ধরেন এবং পরিচয় করিয়ে দেন। তিনি সবাইকে দেখিয়েছেন যে, কিভাবে একটি লাইট বা আলোর সাহায্যে যোগাযোগ স্থাপন করা যায়। Li-fi vs Wi-fi এর পরীক্ষামূলক ফলাফলের পর, li-fi কে wi-fi তুলনায় খুবই ফাস্ট দেখা গিয়েছিল।

তারপর তিনি একটি কোম্পানির সাথে Li-Fi কে আরও উন্নত করার কাজে লেগে যান। আর সেই কোম্পানির নাম রাখা হয় PURELIFI. যদিও বর্তমানে li-fi নিয়ে অনেকগুলো কোম্পানি কাজ করছে।

LiFi কীভাবে কাজ করে?

আমরা সবার প্রথমে টিভি ও রিমোট নিয়ে একটি উদাহরণ দিচ্ছি। তাহলে আপনাদের বুঝতে সুবিধা হবে। যখন আমরা রিমোট দিয়ে টিভিকে সিগন্যাল দেই, তখন টিভির চ্যানেল পরিবর্তন হয়ে যায়। কিন্তু কেনো এরকম হয়? আসুন জানা যাক।

আমরা দেখেছি যে, টিভির রিমোট এর সামনে একটি লাইট লাগানো থাকে। যাকে ইনফ্রারেড বাল্বও বলা হয়। তারপর, যখন আপনি রিমোটের কোনো বাটন চাপেন, তখন রিমোটের লাইটের নিদিষ্ট সংকেত এর আলো জ্বলে ওঠে। সেই রিমোটের আলো দেখে টিভির সামনে থাকা সেন্সর সেটি বুঝে ফেলে এবং সেভাবেই কাজ করে।

ধরুন, টিভির চ্যানেল বদলানোর জন্য রিমোটের লাইটটি ২ বার মিটমিট করলে চ্যানেল বদলায়। অর্থাৎ যখনই রিমোট চাপা হয়, ততবারই ভিন্ন ভিন্ন সংকেত টিভিতে পাঠানো হয়। আর টিভি রিমোটের সংকেত বুঝে ফেলে, কারণ টিভিতে আগে থেকে প্রোগামিং করা আছে।

আমাদের এই li-fi প্রযুক্তিও অনেকটা সেরকম। তবে আমাদের টিভি রিমোটে মাত্র একটি বাল্ব লাগানো থাকে। কিন্তু লাই-ফাইতে প্রচুর বাল্ব লাগানো থাকবে, যাতে করে ডাটা ট্রান্সফার দ্রুততর হয় এবং একসাথে অনেকে তা ব্যবহার করতে পারবেন। এবার কাজের কথায় আসা যাক।

প্রথমে li-fi Net সার্ভার থেকে ইন্টারনেট আপনার রাউটারে আসবে। তারপর রাউটার থেকে লাইট বা বাল্বে ডাটা ট্রান্সফার হবে এবং আপনি সেখান থেকেই সেবাটি পাবেন।

যদি বইয়ের ভাষায় বলতে চাই, তাহলে বলব যে, LED বাল্ব এর থেকে আলো, ফ্রিকোয়ন্সিগুলোতে ডেটা ক্যাপচার করে। আর ডাটাগুলো আদান-প্রদান করা হয়, LiFi supported ডিভাইসের মাধ্যমে। তারপর একটি Photo Sensitive Detector আলোক ফ্রিকুয়েন্সিগুলো সংকেতে পরিণত করে এবং Electronic ডাটা সিস্টেমে রুপান্তর করে। আর এভাবেই লাই-ফাই কাজ করে।

লাইফাইয়ের সুবিধাসমূহ (Lifi vs Wifi)

আমরা এতক্ষন যা যা জেনেছি, তাতে হয়তো ফাস্ট স্পিড এর সুবিধার কথা জেনে গিয়েছি। এখন জানা যাক আরো কিছু সুবিধার কথা।

১. সর্বপ্রথম সুবিধা আমরা আগেই জেনেছি, আর তা হচ্ছে এর দূর্দান্ত স্পিড। লাই-ফাইতে আপনি প্রায় 100 GBPS পর্যন্ত স্পিড পেতে পারেন। এছাড়াও Li-fi তে Wi-fi এর তুলনায় ১০,০০০ গুন Frequency বেশি পাওয়া যাবে।

২. Li-fi তে ফ্রিকোয়েন্সি বেশি হওয়ায় একসাথে অনেকজন ব্যবহার নির্বিঘ্নে এটি ব্যবহার করতে পারবেন। কিন্তু Wi-fi তে ব্যবহারকারীর সংখ্যা বেশি হলে নেট স্লো হয়ে যায়। তাই লাই-ফাই হবে নেট শেয়ারিং এর সেরা প্রযুক্তি।

৩. Li-fi ঘরের লাইটের মাধ্যমে কানেক্ট হয়, তাই আপনার রুমের লাইট জ্বললে শুধু আপনিই সেই ডাটা পাবেন। ঘরের বাহিরে অন্যকেউ আপনার টাকায় কেনা Li-fi ব্যবহার করতে পারবে না। আর কেউ বুঝবেও না যে, আপনি লাই-ফাই চালাচ্ছেন। অন্যদিকে wifi চালালে তা দেয়াল ভেদ করে বাহিরে চলে যায় এবং পাসওয়ার্ড জানলে অন্যরা কানেক্ট করে ফেলে। ফলে wifi স্পিড কমে যায়।

৪. Li-fi যেহেতু আলোর মাধ্যমে চলে, তাই এটিকে আপনি আপনার দিকে টার্গেট করে চালাতে পারবেন। যার ফলে সিগন্যাল লস হবেনা এবং ডাটা আদান-প্রদান এর গতি বেড়ে যাবে। অন্যদিকে wifi তে সিগনাল চারিদিকে ছড়িয়ে গিয়ে লস হয় প্রচুর। আর আপনিও প্রকৃত গতি পান না। তাই লাই-ফাই হবে ইন্টারনেট গতির সর্বশেষ নিদর্শন।

৫. এমন অনেক জায়গা আছে, যেখানে রেডিও বা বেতার সংকেত নিষিদ্ধ। সেখানেও আপনি এই প্রযুক্তি

ব্যবহার করতে পারবেন। কারণ, এটি ব্যবহার করার জন্য বেতারের প্রয়োজন নেই। যেমন – বিভিন্ন ফ্যাক্টরিতে বেতার সিগন্যাল বা নেটওয়ার্ক অফ করা থাকে। কারণ, নেট সিগনাল থেকে অনেক সময় দূর্ঘটনার আশঙ্কা থাকে। আবার বিমানেও কিন্তু নেটওয়ার্ক পাওয়া যায়না। তাই সেখানে চাইলেও আপনি লাইফাই ব্যবহার করতে পারবেন।

আর সবচেয়ে মজার ব্যাপার হচ্ছে, গভীর স্বচ্ছ পানির নিচেও আপনি লাই-ফাই ইউজ করতে পারবেন। কারণ আমরা জানি যে, পানির নিচে সাধারণ বেতার সিগন্যাল কাজ করে না, কিন্তু আলোক সিগন্যাল কাজ করবেই।

যখন আপনি লাই-ফাই ব্যবহার করবেন, তখন আরো অনেক সুবিধা দেখতে পাবেন। কারণ, ব্যবহার করলে একটা জিনিস সম্পর্কে প্রকৃত ধারণা পাওয়া যায়। আসুন এবার লাই-ফাই নিয়ে কিছু আজগুবি কাহিনীর রহস্য বের করা যাক। হয়তোবা আপনিও এই গুজবে বিশ্বাসী। গুজব ঘুচানো যাক।

লাইফাই নিয়ে ভুল ধারনা

১. আমরা অনেকেই জেনেছি যে, ওয়াইফাই থেকে লাইফাই ১০০ গুন পর্যন্ত দ্রুতগামী হবে। কিন্তু আমার কাছে এটা গুজব মনে হয়েছে। কারণ, আমরা যে wi-fi ব্যবহার করি, তার সর্বশেষ প্রযুক্তি 700 GBPS পর্যন্ত স্পিড দিতে পারবে। এরকম স্পিড লাইফাইয়ের পরীক্ষাগুলোতে এখনও পাওয়া যায়নি। তাই লাইফাই কখনই ওয়াই-ফাই থেকে ১০০ গুণ দ্রুত হতে পারবে না। হতে পারে গবেষণার মাধ্যমে অদূর ভবিষ্যতে ২গুণ দ্রুত হতে পারে।

২. li-fi তে মুভি বা বড়ফাইল ১/২ সেকেন্ডে ডাউনলোড হবে, এটা আসলে তেমন বাস্তব না। কারণ। আমরা বর্তমানে wifi এর ৭০০ জিবিপিএস স্পিডের ইন্টারনেটের কথা শুনেছি। কিন্তু সার্ভিস প্রোভাইডাররা আমাদের যে লাইন যে, সেখান থেকে সর্বোচ্চ ১০০ এমবিপিএস এর পাই কিনা সন্দেহ। আর লাই-ফাইতে আপনি কীভাব এত স্পিড এর আশা করবেন? হতে পারে এই স্পিড অফিসিয়ালি কোনো বড় বড় কাজের জন্য প্রযোজ্য হবে।

Li-Fi কবে আসবে?

ইতোমধ্যে বিভিন্ন বড় বড় আইটি প্রতিষ্ঠান লাইফাই ব্যবহার করে কাজ করা শুরু করে দিয়েছে। এছাড়াও লাই-ফাই ব্যবহার করতে আপনাকে লাই-ফাই সাপোর্টেড মোবাইল কিনতে হবে। নামকরা মোবাইল নির্মাতা কোম্পানিগুলো মোবাইলকে লাই-ফাই সাপোর্টেড করার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে।

যেহেতু কিছু কোম্পানি লাইফাই নিয়ে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে, তাই ধারনা করা যায় ২০২২ সালে লাইফাই ব্যবহার করা যাবে। দাম নিয়ে কোনোকিছু জানা যায়নি।

শেষকথা

Li-fi নিয়ে আপনাদের এত মাতামাতি করার কিছু নাই। কারণ আমাদের ফোন লাই-ফাই সাপোর্টেড না। যদি কেউ লাই-ফাই সাপোর্টেড ফোন কিনেন, তাহলে কেমন স্পিড পান তা কমেন্টবক্সে এসে জানিয়ে যাবেন ইনশাআল্লাহ।

Related Posts