Menu Close

যৌতুক অহেতুক একটা ইস্যু, জঘন্য পাপ আর ঘৃন্যতম কাজ

যৌতুক অহেতুক একটা ইস্যু

এইসব কাজ শুধুমাত্ত বেহায়ারা করে থাকেন। আমাদের দেশে এই ইস্যু খুব বেশি ই গুরুতর। যৌতুক নেওয়া শূকরের মাংস খাওয়ার চেয়েও হারাম। শূকরের গোস্ত খাওয়া পাপ কিন্তু যৌতুক নেওয়া তার চেয়ে বড় পাপ। শূকরের গোস্ত খেলে একটা পাপ হয় কিন্তু যৌতুক নিলে দুইটা পাপ হয়। আমাদের দেশে অনেক বাবা মা আছে দিন এনে দিন খায় কিন্তু ঘরে যদি মেয়ে জন্ম দিয়ে থাকেন তবে তার জন্য তাকে অনেক ত্যাগ স্বীকার করতে হয়। একটা মেয়ে কে ভালবাসা যত্ন দিয়ে টাকা পয়সা শ্রম দিয়ে মানুষ করে পড়ালেখা করিয়ে বিয়ে দিতে যাবে তখন ও তাকে মেয়ের ওজনের চেয়ে বেশি টাকা দিয়ে তুলে দিতে হবে।

মেয়ের বাবা যদি হয় গরিব আর মেয়ের সম্মন্ধ যদি আসে কোন উঁচু ফ্যামিলি থেকে তবে তাকে তাদের সোসায়টি তে যাওয়ার মত দেখানোর মত উপঢৌকন দিতে হবে না হলে মেয়ে সুন্দর বা শিক্ষিত দেখে বিয়ে করে নিলে কিছুদিন ভাল যাবে তারপর মেয়ের বাবার ফ্যামিলির সাথে ছেলের বাবার ফ্যামিলি যাবে না তখন মেয়ে কে নানা ভাবে অত্যাচার করবে স্বামি সহ শশুর-শাশুড়ি,ননদ,জা, দেবর।

যৌতুক কেনো নেবেন না?

মেয়ে টা যে গরিব বাবার সন্তান তারে হাড়ে হাড়ে কথা আর কাজে বুঝিয়ে দেবে। এক সময় অত্যাচার করবে,বাসা থেকে এটা ওটা আনতে না আনলে পরিবারের সবায় মিলে ধরে মেরে ফেলে দিবে। সিম্পল এইসব আমাদের দেশে। আমি ওইসব বেহায়া লোকদের বলবো যে বাবা মাথার ঘাম পায়ে ফেলে একটা কন্যা সন্তান সে সম্মান দিয়ে, ভালবাসা, টাকা পয়সা শিক্ষা দিক্ষা দিয়ে বড় করে সেই বাবা কখনো গরিব হয়না।গরিব তো তাদের মত ছোটলোক যারা ঢের অঢেল থাকার পর ও বাপের বাড়ি থেকে আনার জন্য অত্যাচার করে। বিকৃত মস্তিষ্ক তো তাদের পশু তো তারাই যারা মেয়েটিকে যারা এতটা শ্রম দিয়ে মানুষ করে আর তাদের গরিব বলে অবজ্ঞা করে।গরিব তো তাদের মন মানুষিকতা। তাদের স্থান জাহান্নামেও হবে না।

শুধু মরে দেখো। গরিব কারা? গরিব আর পশু তারাই যারা অবৈধ অত্যাচার আর অবৈধ কথা শোনায়।আমাদের দেশে এই যৌতুক ইস্যু নিয়ে অহরহ মেয়ে আত্নহত্যা করে মারা যাইতেছে।সুষ্ঠ বিচারের অভাবে হয়ত এখনো সব কিছু এগিয়েই চলছে।মটর সাইকেল, টিভি, ফ্রিজ,খাট, বিভিন্ন আসবাবপত্র, টাকা,পয়সা সোনা-গহনা সহ ইত্যাদি কিছু নিয়ে থাকেন। আসলে তাদের কি সম্মান যায়না তাদের? তাদের ও যে সম্মান যায় এইগুলা কবে তাদের অনুধাবন হবে। কবে তাদের অনুধাবন হবে যৌতুক নেওয়া এবং দেওয়া দুইটাই জাহান্নামে যাইবার কাজ।একদিন মরতে হবে।পাপ গুলা কবে অনুধাবন করবে।

আসুন মানুষ হিসেবে চিন্তা করি

আমার পরিচিত কাউকেই দেখেছি বিয়ে করে শশুর বাড়ি থেকে কি নেবে তার প্লান করা। আমার সামনে বসে প্লান করেছে।মানুষ কতটা বেহায়া হলে এইসব করতে পারে তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। যৌতুক নিয়ে বাংলাদেশের আইনঃ যৌতুক সম্পর্কে বাংলাদেশে ১৯৮০ সালে আইন পাস হয়েছিল। সেই আইনে যৌতুক গ্রহন কারীর শাস্তি ছিল এক বছর জেল আর পাঁজ হাজার টাকা জরিমানা। কিন্তু তবুও সেই আইন সুফল ভাবে কাজ করেনি। এর মধ্য দিয়েই কত নারীর সংসার ভেঙে গেছে কত নারী পরিবার ছেড়ে আত্নহত্যা করেছে,কত মা হয়েছে সন্তান হারা,কত ছেলেমেয়ে হয়েছেন মা হারা। আটকানো যাইনি কোন কিছুই। কিন্তু ২০১৮ সালে ৩৯ নং সংবিধানের অনুচ্ছেদ অনুযায়ি আইনের সংসোধন করা হয়। সেখানে আইন স্বরুপ যৌতুক দেওয়া এবং নেওয়া কে সমান অপরাধে অপরাধি করে শাস্তির কথা উল্লেখ করেছেন। যৌতুক দাবি করার দন্ড অধিক পাঁচ বছর এবং অনূর্ধ্ব এক বছরের জেইল সহ পঞ্চাশ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এছাড়া যৌতুক প্রদান কারীর ও একই শাস্তি। আর এই অপরাধের শাস্তি হিসেবে তদন্ত,বিচার,আপিল,এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয়ে Code Of criminal procedure 1898 (Act no v of 1898) এর বিধান বলি প্রযোজ্য হবে।

যৌতুক নিয়ে ইসলাম ধর্মে কি বলে

যৌতুক নিয়ে ইসলাম ধর্মে কি বলে এবং তা কেন পরিহার করবোঃ বিয়ে করে সংসার শুরু করা একটা সওয়াবের কাজ।আল্লাহর সন্তুষ্টি পাবার পথ।আর সেখানে যদিই হয় অশান্তি আর পাপ দিয়ে তবে সেটা নিশ্চই হারাম।একজন মানুষ কে যদি জিজ্ঞেস করা হয় বিয়ে কেন করেছেন বা করবেন তবে তিনি নিশ্চয় উত্তর দিবেন এইটা যে বিয়ে করা ফরজ কাজ এবং পাপ থেকে মুক্তির পথ। কিন্তু পরেই তারা পাপের পথে নিযুক্ত হয়।

আল কুরআনে আছেঃ যখন কোন নারীকে তোমরা বিয়ে করবে তখন তাকে মোহরানা প্রদান করবে এবং মোহরানা দিয়ে গ্রহন করবে।”…. একবার মহানবির কাছে তার প্রিয় কন্যা ফাতেমা এসেছিলেন কাজের লোকের জন্য তিনি বলেছিলেন তুমি কাজের লোক না নিয়ে তুমি সুবহানআল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ বল”…… ইসলাম ধর্ম বিয়ে একটি হালাল কাজ যখন আপনি সেই হালাল কাজ টাকে যৌতুক নিয়ে হারাম করবেন তখন সংসার জীবনে শান্তি আর বরকত নষ্ট হয়ে যায়। অনেকে আছে অনেক টাকা কাবিন করে পাঁচ দশ লাখ কিন্তু দিতে পারেনা। কৌশল অবলম্বন করে ক্ষমা চেয়ে নেয় বলে এই টাকা তো আমারি আর তোমারি টাকা। কিন্তু ইসলাম ধর্ম এটাকে গর্হিত কাজ বলা হয়েছে। তাই আমাদের উচিত যৌতুক না বলা।হারাম কাজ থেকে বিরত থাকা।

যৌতুক নিয়ে বাবা-মায়ের হয়রানি

যৌতুকের কারনে অনেক মেয়ে আত্নহত্যা করতেছে। বাবা- মা বিয়ের সময় তারে তাদের শশুর বাড়ির চাহিদা অনুযায়ি যতটুকু পারে দিয়ে দেন। কিন্তু একইভাবে যখন আবার চাপ দিতে থাকেন তখন ওই মেয়ের কিছু করার থাকেনা। একদিকে থেকে বাবা-মায়ের ভালবাসা অন্যদিকে থেকে নিজের বিবেক এর কারণেই অনেক মেয়ে মারা যায়। সমাজের ভয়ে এই ভয়ে যে বাবা-মা অনেক বড় করেছেন কত শ্রম শিক্ষা দিক্ষা বিয়ে করার সময় সাথে যা চেয়েছিল নিয়েও এসেছে তা বিবেকে বাঁধে বাবা- মাকে কষ্ট দিতে। বাবা-মাকে মুখ ফুটে কিছু বলতে পারেনা। এই ভয়ে যে বাবা মা কষ্ট পাবে।

অথবা সমাজের কাছে হেয় হবে।অন্যদিকে যখন শারিরিক, মানুষিক মর্মান্তিক নির্যাতন সহ্য করে তখন অনেকে আইনের ব্যবস্থা নিতে ভয় পায় সমাজ কে তার বিনিময়ে কি হয় এক সময় মেয়েটা আত্নহত্যা করে মারা যায়। এসবই ঘটে আসছে।নয়তবা বরের বাড়ির সবাই মিলে মেরে ফেলে আত্নহত্যা করেছে বলে চালিয়ে দেয়। এতে কি বাবা মা পড়ে যায় বিপাকে সন্তান কে হারিয়ে।প্রত্যক বাবা মায়ের কাছে তার সন্তান গুলা একটা একটা কলিজা। আর কলিজা চলে গেলে কতটুকু ব্যাথা আর যন্ত্রনা তা বাবা -মা বোঝেন।অন্যদের তো শুধু মুখের কথা।

পরিশেষে মানুষের বিবেক হল শ্রেষ্ঠ আদালত। এর চেয়ে বড় আদালত আর দ্বিতীয় একটিও নেই।মানুষ যদি বিবেক এবং সবল মস্তিষ্ক কে জাগ্রত করে তবে সমাজ থেকে অনেক কিছু দূর হয়ে যাবে পাপ এবং সমাজের কিছু গর্হিত কাজ থেকে বিরত থাকা যাবে। বিশেষ করে এই যৌতুক প্রথা অনেক মানুষ কে কষ্ট হয়রানি এবং বিপাকে ফেলে যাতে অনেক মানুষের প্রান যায়,দাম্পত্য কলহ,ঝগড়া বিবাদ সৃষ্টি হয়ে যায়।যা সকলের জন্য খুব ভয়ংকর। তাই সবাইকে বিবেক জাগ্রত করে যৌতুক প্রতিহত করা দরকার।

Related Posts