Menu Close

মানুষ সৃষ্টির রহস্যঃ পবিত্র আল-কুরআনের বানী

মানুষ সৃষ্টির রহস্য

পবিত্র আল কুরআন থেকে আমরা জানতে পারি মানুষ সৃষ্টির রহস্য, পৃৃথিবী কিভাবে সৃষ্টি হয়েছে, এবং যাবতীয় তথ্য। পবিত্র কুরআন হল এক বিশ্বাসের বিশ্বকোষ, একটি পরিপুর্ন জীবন বিধান। আমরা চোখ বন্ধ করে বিশ্বাস করতে পারি কুরআনকে।চন্দ্র, সৃর্য এই আকাশ বাতাস মানুষ জীব থেকে শুরু করে আমাদের পৃৃথিবী তে যা আছে তার সবই মহান রাব্বুল আল-আমিন কিভাবে এবং কেমন করে সৃষ্টি করেছেন তা আমরা কুরআনে চোখ রাখলেই পেয়ে যাবো।

মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন কুরআনে উল্লেখ করেছেন ছয়দিনে পৃৃথিবী কে সৃষ্টি করেছেন। আর মহা বিষ্ফোরনের মাধ্যমে পৃৃথিবীর জন্ম। আজ থেকে প্রায় এক ১ হাজার ৫ শত বছর আগে আল্লাহ রাব্বুল আলামিন পবিত্র কুর আনে পৃৃথিবী সৃষ্টির রহস্য উল্লেখ করেছেন।

সৃষ্টি সম্পর্কে কিছু গুরত্বপূর্ন আয়াত

“অবিশ্বাসীরা কি দেখেনা যে আমি সপ্তাকাশ ও পৃৃথিবী পুঞ্জিভূত হয়ে ছিল অতঃপর আমি উভয়টি এক মহা বিষ্ফোরকের মাধ্যমে সূচনা করেছি” (সূরা আম্বিয়া,আয়াতঃ ৩০)।

অনেকের প্রশ্ন থাকে পৃৃথিবী সৃষ্টি সম্পর্কে? অবশ্যই আল্লাহ উল্লেখ করে দিয়েছেন কুরআনে যে তিনি পৃৃথিবী আগে সৃষ্টি করেছেন। তারপর ভূগর্ভস্থ সব সৃষ্টি করা হয়েছে। মানুষের পৃৃথিবীতে বাঁচবার জন্য যা দরকার তিনি একে একে ছয়দিনে সব করেছেন এবং তারপর আকাশে বিরাজমান হয়েছেন যা ছিল ধোঁয়াশাচ্ছন্ন।

পৃৃথিবীসহ আরো কিছু গ্রহ সূর্য কে কেন্দ্র করে অবিরত ঢেউ খেলে ঘুরে বেড়াচ্ছে।

সাইন্স থেকে ধারনা পাওয়া গেছে পৃৃথিবীর ওজন পায় ৯৭২ কুইটলিয়ন। পৃৃথিবী ক্রমে সংকীর্ণ হয়ে আসছে। পৃৃথিবী সৃষ্টির পর থেকেই তার ভারসাম্য হারাচ্ছে আর সংকীর্ণ হয়ে আসছে পদার্থ বিদদের মতে পৃৃথিবী প্রায় এক চতুর্থাংশ এর ৫০০ টন ভাগ ভারসাম্য হারাচ্ছে।

ধীরে ধীরে ভারসাম্য হারিয়েই চলছে। নকেননা আমরা যে পানি পাই ভূগর্ভস্থ থেকে টিউবওয়েল চাপলেই যে পানি পাই তা কোথা থেকে আসে। আমরা প্রতিনিয়ত ই যে পানি ব্যবহার করছি ভূগর্ভ এ পানি আসে কই থেকে। আল্লাহ কুরআনে উল্লেখ করেছেন যে,”আমি আসমান থেকে পানি বর্ষণ করি এবং তা ভূগর্ভে জমা করি” ( সূরা মুমিনুলঃ আয়াতঃ ১৮)।

আল্লাহ কুর আনে ধিরে ধিরে পৃৃথিবী সংকীর্ণ হবার কথাও উল্লেখ করেছেন।

পৃৃথিবীকে ছয়দিনে সৃষ্টি করা হয়েছে

কিভাবে পৃৃথিবীকে ছয়দিনে সৃষ্টি করা হয়েছে? অনেকের প্রশ্ন করবেন মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন চাইলেই তো চোখের পলকে সব কিছু করতে পারতেন কিন্তু কেন করলেন না। নিশ্চয় ই আল্লাহ তাআলা উত্তম পরিকল্পনা কারী এবং তিনি মানুষ কে ধারাবিহকতা ও কর্ম দক্ষতার শিক্ষা দেওয়ার জন্যই সৃষ্টি করেছেন। এই কথাটার ব্যাখ্যা পবিত্র কুরআনে বিভিন্ন ভাবেই উল্লেখ করা হয়েছে।

পৃৃথিবী সৃষ্টির জন্য যে ছয়দিনে লেগেছে তা দুনিয়ার রাত দিন হিসেব অনুযায়ি ছয়দিন। তিনি তার ইবাদত ও আনুগত্য হবার জন্য মানুষ সৃষ্টি করবেন আর তার পরিচর্যা করার জন্য কি দরকার তা পরিপূর্ণ ভাবেই ব্যবস্থা করে দিয়েছিলেন।

কুরআনে উল্লেখ আছে আল্লাহ বলেছেন, “নিশ্চয়ই তোমাদের প্রতিপালক আল্লাহ, যিনি নভোমণ্ডল ও ভূমন্ডল কে ছয়দিনে সৃষ্টি করেছেন। অতঃপর তিনি আকাশে সমীচীন হয়েছে। তিনি দিনকে রাত্রি দ্বারা আচ্ছাদিত করেছেন এভাবে রাত্রি দিনকেকে দ্রুত ধরে ফেলে। তিনি সৃষ্টি করেছেন সূর্য, চন্দ্র, নক্ষত্র, নিজ আদেশের অনুগামী। জেনে রেখো সৃষ্টি করা এবং আদেশ দান করা তারই কাজ, এবং বরকত ময় আল্লাহ যিনি বিশ্ব জগতের প্রতিপালক।”

(সূরাঃ আরাফ,আয়াতঃ৫৪)।

আল্লাহহ মানুষ কে সৃষ্টি করেছেন তার সমস্থ গুনাবলি দিয়ে। আজ থেকে প্রায় ৬.৫ কোটি বছর আগে পৃৃথিবী তে প্রানের অস্তিত্ব দেখা যায়। আল্লাহ বলেন ..”কুন” (To Be)..অর্থ হয়ে যাও।

হয়ে যায়।

ব্যাকটেরিয়া থেকে প্রানের সৃষ্টি

পৃৃথিবী তে ক্ষুদ্র ছোট ছোট ব্যাকটেরিয়া থেকে প্রানের সৃষ্টি হয়েছিল প্রথমে। তারপর সেই ক্ষুদ্র ব্যাকটেরিয়া থেকে এক সময় বহুকোষী প্রানীর জন্ম হয় যেমন এক ধরনের মাছ প্রজাতির। সেই মাছ গুলো পানিতে বসবাস করতো। কিন্তু এক সময় মাছ গুলো পানির মধ্য থেকে বেরিয়ে এসে স্থলভাগে বসবাস করা শুরু করে দিলো। আর সেই মাছটাই ছিল টিকট্যালিক। আর এই প্রানি প্রায় দেড় কোটি বছর ধরে বিকশিত হতে থাকে। আর এই প্রানি থেকেই হয়েছিল ডায়নোসর, বার্ডস, ম্যমালস এবং মানুষে। কিন্তু ডায়নোসর গুলো এইসব প্রানিদের খাবার হিসেবে গ্রহণ করতে শুরু করল এক সময় এই ভয়ে তারা মাটির নিচে বসবাস করা শুরু করল।

তারপর পৃৃথিবী তে এক সময় আগ্নেয়গিরিরর লাভা বিষ্ফোরিত হয় এর পরিমান এতটায় ভয়াবহ ছিল পরবর্তী তে পৃৃথিবীর রুপ পাল্টে গেছিল একদম এখন যেমন দেখতে পৃৃথিবীর চেহারা ঠিক তখন তেমন টাই দেখতে হয়েছিল।

তখন যে ৫ পারসেন্ট প্রানি বেঁচে ছিল। সেই প্রানি গুলোর মধ্য ছিল ডায়নোসর। ডায়নোসর গুলি অন্যসব প্রানিদের খেয়ে রাজত্ব করছিল।আর এদের মধ্য অনেকে মাংসাশী ছিল, হিংস্র ছিল এমন কি কিছু ডায়নোসর ছিল শান্ত। এরা প্রায় আনুমানিক চৌদ্দ থেকে ষোল কোটি বছর রাজত্ব করেছিল পৃৃথিবীতে।

প্রায় ৬.৫ কোটি বছর পূর্বেকার কথা তখন পৃৃথিবী খুব মনোরম পরিবেশ ধারণ করেছিল।তখন পৃৃথিবীর নির্মল হাওয়া, বাতাস আর চকচকে পরিবেশে বসবাস ছিল ডায়নোসর সহ ইঁদুরের মত দেখতে কিছু প্রানি।সত্যি বলতে এদের বিকশিত হবার ফলেই মানুষ প্রজাতির জন্ম ছিল।ডায়নোসরের জন্ম ডিম থেকে কিন্তু ম্যমালস এর জন্ম ডিম থেকে হত না।আর এইসব ম্যমালস থেকে এক সময় মানুষের জন্ম হয়।

এক সময় ১০ কিলোমিটার এস্টোরয়েড এই পৃৃথিবীতে আঘাত করে আর সেই আঘাতের বয়াবহতা এতটা ভয়ানক ছিল যে এর ফলে বিশাল গর্ত হয়ে যায়। পৃৃথিবী তে ধূলার তান্ডব লিলা সহ বিভিন্ন রকমের ভয়ানক অগ্নিকান্ড থেকে শুরু করে আগুনের সুনামি হতে শুরু করে যাতে করে পৃৃথিবীর অবস্থা ভয়ানক রুপ ধারন করেছিল এক সময়। সেই এস্টোরয়েড সহ সুনামির আঘাতে ডায়নোসর গুলো মরে যেতে থাকে আর ডায়নোসর গুলোর ভয়ে যে ম্যমালস গুলো মাটির নিচে ঠান্ডা তাপমাত্রা পাবার জন্য বসবাস করতে শুরু করেছিল তারা এই ভয়ানক অবস্থা থেকে বাঁচে।

নিজেদের বাঁচানোর জন্য তারা সব ধরনের খাবার খেতে থাকে।এক সময় তারা মাটির নিচে থেকে বেড়িয়ে আসে যখন পৃৃথিবীর আবহাওয়া আবার সুস্থ হয়। আর এই ম্যমালস গুলো এক সময় আকৃতি তে তার চেয়ে বড় হতে থাকে। কিন্তু আমরা এখন যেমন দেখতে তেমন নয়। বহুবছর বিবর্তন এর পর এরা আমাদের মত হবে। ৪.৭ কোটি বছর আগে পৃৃথিবীর তাপমাত্রা ছিল চব্বিশ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এখনকার মত দিনরাত্রি চব্বিশ ঘন্টা হতে থাকে। এক সময়। পৃৃথিবীর ট্যাকটনিক প্লেটের মধ্য ফের একবার মুভমেন্ট হলে দুইটি ভুখন্ডে তৈরি হয়।

যা পৃৃথিবীর কিছু বড় বড় দ্বীপ কে কাছে আকর্ষণ করতে ছিল আর এক সময় বর্তমান যে ভারত সেই দ্বীপ এশিয়া মহাদেশের সাথে যুক্ত হয়ে যায় এর ফলে প্রচন্ড এক ধাক্কা লাগে পৃৃথিবীর বুকে যাতে বিভিন্ন ধরনের পাহার বা পর্বত তৈরি হতে ছিল ভেঙে ভেঙে। তার মধ্য এখনকার অন্যতম ছিল মাউন্ট এভারেষ্ট । আজ থেকে চল্লিশ লক্ষ বছর আগে আফ্রিকার একটি নতুন পর্বত সৃষ্টি হয়।সেই পর্বতের নাম ছিল ইষ্ট আফ্রিকা এডিপ্ট ভ্যালি।

এই ভ্যালি হাওয়া আবহাওয়া রোধ করে দাঁড়িয়ে ছিল যাতে গরমের প্রভাব বেড়ে যায় আর। আর এই জঙ্গলেই থাকত ইভস। আর এরা গাছেই থাকত। সেখানেই তারা খাবার খেত। কিন্তু আবহাওয়াগত সমস্যা হবার কারণে এরা মাটিতে নামতে থাকে। আর এদের বিকাশ হতে থাকে। এসময় এরা নিজেদের খাবাররের তাগিদে পায়ে হাঁটা শুরু করে দিল।

এক সাথে থাকা শুরু করে দিল। ধীরে ধীরে এদের বিকাশ বাড়তে লাগল। এরা অন্যসব প্রানি থেকে সবচেয়ে বেশি বুদ্ধিমান প্রানি ছিল। এরা নিজেদের মধ্য নিজেদের ভাষা প্রকাশ করার জন্য নিজেদের মধ্য আওয়াজ তৈরি করতে লাগল যা পরবর্তী তে আমাদের ভাষা বিস্তার হতে থাকে। এরা এক সাথে থাকার ফলে আমাদের বংশ বিস্তার ও হতে থাকে আর এইভাবেই মানুষের সৃষ্টি হয়।

শুক্রানুর ভিতরে প্রানের অস্তিত্ব

১৯৭৭ সালে সাইন্টিস্ট অনুবিক্ষণ যন্ত্রের সাহায্য শুক্রানুর ভিতরে প্রানের অস্তিত্ব পান। দেড় হাজার বছর আগে আল্লাহ কুরআনে ঘোসনা দিয়েছেন যে শুক্রানুর ভিতর স্পার্মের ভিতরে প্রান আছে। ওভাম এবং স্পার্মম হয় জাইগোট তারপর হয় ভ্রুণ। তারপর তৈরি হয় রক্তবিন্দু আর সেই রক্তবিন্দু থেকেই মানুষের সৃষ্টি।

আল্লাহ কোর আনে তুলে ধরেছেন যে, তুমি ছিলে পানি আর সেই পানি থেকে একদলা রক্তবিন্দু আর সেই রক্ত বিন্দুর মধ্য আল্লাহ তৈরি করে দিলেন কঙ্গাল তারপর সেই কঙ্গালে দিলেন আকৃতি অনুযায়ি গোস্ত। তারপর তিনি দান করলেন ” রুহ ” এবং ” ফেরেশতা”।

প্রত্যেক টা মানুষের কাঁধে দুইটা ফেরেশতা আছে।যতক্ষণ রুহ আছে ততক্ষণ ওই দুই ফেরেশতাও থাকবে। মানুষের রুহ চলে যাবে। ফেরেশতাও চলে যাবে।

মানুষ ৭ মাস তিনটা প্যাকেটে থাকে মায়ের পেটে কুর আনে উল্লেখ করা আছে,সেই তিনটা প্যাকেট হল,

  • প্লাসেন্টা-ফুল,
  • ওম-জরায়ু
  • আর তৃতীয় টি হল, পেট। মায়ের পেট।

মানুষের জন্ম এক ফোটা বীর্য থেকে। সেই বীর্যের ভিতর থাকে ২০ কোটি শুক্রাণু (বা তার বেশি)। বিশ কোটির কম শুক্রাণু থেকে কোন সন্তান জন্ম নেয়না।

আর এই চক্রের মধ্য দিয়ে মানুষের বংশ বিস্তার হয়েই চলেছে দুনিয়ার বুকে।

Related Posts