Menu Close

মাদকাসক্তির কুফল ও তার প্রতিকারঃ জেনে রাখা জরুরী

মাদকাসক্তির কুফল ও তার প্রতিকার

মাদকাসক্তি যেন সবচেয়ে বড় প্রাণনাশক এবং প্রানঘাতী নেশা হয়ে দাড়িয়েছে বিশ্বের দরবারে। এই বিভিন্ন মাদক দ্রব্যর নেশা বেশিরভাগ মানুষের জীবনে ডেকে এনেছে অন্ধকার। গবেষণায় দেখা গেছে মাদকদ্রব্য এত বেশি যে জাতি হুমকির মুখে। কারণ বেশির ভাগ ই তরুন কিশোর কিশোরি।আপনারা এইটা শুনে অবাক হবেন যে এখন মেয়েরা সবচেয়ে বেশি মদ্য পানে মা বিভিন্ন ভাবে নেশার দুনিয়ায় আসক্ত হয়ে পড়তেছে বেশি।

মাদকাসক্তির মাত্রা বৃদ্ধি

গবেষণায় দেখা গেছে, মাদকাসক্তদের মধ্যে ৪৫ ভাগ বেকার ৬৫ ভাগ স্নাতক পর্যায় থেকে ঝড়ে পড়া ১৫ ভাগ উচ্চ শিক্ষিত। কি বলবো আমরা এই জরিপে কিছু বলার আছে। বাকশক্তি হারিয়ে ফেলি। এতটা প্রানঘাতী ব্যাপার তবুও প্রতিদিন মানুষ নেশাগ্রস্ত হইতেছে। নেশাগ্রস্থদের সাথে কথা বলে এইটা জানা গেছে যে বেশির ভাগ ই স্টুডেন্ট।

একেকজন একেক ভাবে জড়িয়ে পড়েছে, কেউ কেউ ভালবাসা না পেয়ে জড়িয়ে পড়তেছে, বাবা – মায়ের ভালবাসা আদর স্নেহ ভাল বন্ধুত্ব না পেয়ে সময় না পেয়ে আসক্ত হয়ে যাইতেছে কেউ কেউ প্রেমে ব্যর্থ হয়ে আসক্ত হয়তেছে। এছাড়া বেকারত্ব না সইতে পেরে আসক্ত হইতেছে। পড়াশোনায় ঝড়ে গিয়ে বা বন্ধু-বান্ধবের মাধ্যমে আসক্ত হইতেছে।

মাদকাসক্তি নিয়ন্ত্রনে পরিবারে গুরত্ব

অনেক ছেলে মেয়ে কে বাসা থেকে টিউশনি দিয়েছে বাবা -মা তিন চারটা করে সারাদিন টিউশনির নাম করে বাহিরে থাকছে আর বন্ধু-বান্ধবের সাথে আড্ডা দিয়ে ফিরতেছে। বাবা- মা যেন টিউশনি দিয়ে ক্ষ্যন্ত হয়ে পড়েছেন। ছেলে মেয়ে আমার খুব পড়াশোনায় ব্যস্ত।কিন্তু তার নামে কাঁচকলা। বাবা -মা চাকরি বা অন্যকোন জায়গায় বাহিরে গেলেই বন্ধু-বান্ধুবি নিয়ে ঢুকে পড়ে বাসায়।বাবা -মা সময় পাইলে জিগায়লে বলবে আমার পরিক্ষা তাই এসেছে।

এতে করে রুমের দরজা বন্ধ করে নেশায় ডুবে থাকে তারপর মুখে বা রুমে স্প্রে করে বাহিরে সুঘ্রাণ নিয়ে চলে আশে। মেয়েরা আজকাল বেশি ই আসক্ত হয়েছে, হইতেছে।মেয়েগুলা নিজেদের দেহ বিক্রি করাও শুরু করে দিয়েছে। তারা খুব সুস্থ আর সবল মস্তিষ্ক নিয়ে খুব সাধারণ মানুষ কে পাঠায় সেই নেশার বস্তু আনতে।তারপর সময় বুঝে নিজেদের জায়গা বুঝে সেগুলা রুমে বসেই সেবন করে। তাদের যদি নেশার কারণ জিজ্ঞেস করা যায়, তারা বেশির ভাগ ঈ পরিবার কে দোষ দিয়ে বসে পড়ে।

আসলে পরিবার কে হতে হবে কো অপারেটিভ পূর্ণ। একজন মানুষ পরিবারেই ভাল মন্দ ভালবাসার আদব কায়দার শিক্ষা পায়। কিছু হলে পরিবারের সাথে অনেকেই শেয়ার করতে পারেনা। বা শেয়ার করার মত কাউকে পায়না। আমি নিজেকে দিয়ে বুঝি আমার বাবা -মা কখনো আমার ভূলের ক্রেডিট নিবেনা। সব সময় ভূলের জন্য বকবে। ভয়ে বা বকুনি খাবার ভয়ে অনেক কিছু শেয়ার করতে পারিনা।আর শেয়ার না করলে ভাল থাকার ভাল মন্দের শিক্ষা কে দিবে? পাড়া-প্রতিবেশি? না পাড়া প্রতিবেশি গুলা জান নেওয়ার মত ব্যবস্থা করে দিবে। তখন মানুষ অসহায় হয়ে যায়। কিছু করার থাকেনা।পাগল পাগল লাগে।

মানুষ তখন ই ভূলে আরো ভূল ডিসিশন নিয়ে তলিয়ে যায়। অনেকের মুখে শোনা গেছে বাবা-মায়ের কারণে আমার জীবন নষ্ট হয়ে গেছে।আমি বিশ্বাস করি।কেননা,বাবা- মা যদি বন্ধু না হয় তবে তার মত দুখি ব্যক্তি একটাও নেই।বাবা-মা প্রাথমিক শিক্ষক ছোটবেলা থেকে।তারাই যদি মিসিং থাকে তবে ভূল পথে যাওয়া স্বাভাবিক। অনেক বাবা মায়ের অনেক টাকা পয়সা আছে কিন্তু তার বা তাদের মধ্য কোন আদব-কায়দা নেই। বলেছেন এক মেয়ে যে আমার পরিবারে টাকা পয়সার অভাব নেই কিন্তু ভাল মানুষ নেই।আদব কায়দা নেই। মানুষে মানুষে ভালবাসা নেই আমার পরিবারে।তাই আমি নেশায় আসক্ত হয়ে গেছি।

নেশার মানে অকাল মৃত্য

নেশার ভবিষ্যত হচ্ছে অকাল মৃত্যু, এইটা জানার পরেও মানুষ নেশাগ্রস্ত হয়ে পড়ছে। পারিপার্শ্বিক অবস্থা দায়ি তার জন্য। নেশায় আক্রান্ত হলে মানুষের শরীরে বিভিন্ন রোগ হয়ে থাকে। অনেক রকম নেশার মধ্যে নিচে কিছু কমন নেশা এবং এর কুফল নিয়ে আলোচনা করা হলোঃ

ইয়াবা সেবনের কুফল

ইয়াবা সেবন করলে প্রানঘাতী রোগ ব্যাধি নিশ্চিত। এতে করে স্মরণ শক্তি ও মনযোগ নষ্ট হয়ে যায়। আত্নহত্যার প্রবণতা দেখা দেয়। যৌনশক্তি নষ্ট হয়ে যায় ও বন্ধ্যাত্ব দেখা দেয়।মস্তিষ্কের রক্তক্ষরণ হয়। কিডিনি ও লিভার নষ্ট হয়ে যায়।রক্তচাপ বৃদ্ধি পায় এবং হার্ট এট্যাক হয়।কলহ প্রবণতা ও আগ্রাসি আক্রমণাত্মক মনোভাব পরিলক্ষিত হয়। এত ক্ষতিকর দিক শুনলে বা কেউ জানলে নিশ্চিত সে নেশায় আসক্ত হবেনা।তবুও হয়ে চলেছে।

গাঁজা সেবন এরকুফল

গাঁজা সেবন করার ফলে দৃষ্টি শক্তি আর স্মৃতি শক্তি লোপ পায়।মতিভ্রম হয়।পুরুষত্বহীনতা দেখা দেয়।ফুসফুসে বা হার্ট ডিজিজ হবার প্রবণতা দেখা দেয়।তাছাড়াও মদ্যপানে গ্যাস্ট্রিক ও আলসার হয়।লিভার ও সিরামিক ক্যন্সার হয়। মুখের ঘা বা ক্যন্সার হয়।ফুসফুসের ক্যন্সার হয়।হার্ট এট্যাক বা মস্তিষ্কের রক্ত ক্ষরণ হয়।মাদক গ্রহন করলে এইডস হেপাটাইটিস বি,হেপাটাইটিস সি ও হয়।

ধুমপান এর কুফল

এছাড়াও ধুমপান শরিরের জন্য মারাত্মক এইটা ক্যন্সার ও এমফিসোমার কারণ। ধুমপান করার ফলে আপনার ই শুধু ক্ষতিনা।আপনার স্ত্রি বাচ্চা সহ আপনাদের সাথে যারা থাকবে তারাও আক্রান্ত হবে। ধুমপান করার পর যে ধোয়া আপনার থেকে আপনার স্ত্রি এবং আপনার স্ত্রী থেকে আপনার সন্তানের শরীরে বাসা বাধবে।

ইয়াবা বা বিভিন্ন মাদকাসক্ত নেশাগ্রস্ত অবস্থার খুব তাড়াতাড়ি নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। দেশের যেসব জায়গা থেকে বিভিন্ন নেশা জাতিয় দ্রব্য দেশে আসে সেইসব জায়গায় জোড়দার আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে।

আমরা অনেক জায়গায় শুনেছি বা টিভি নিউজ অন করলেই দেখতে পাই অমুক নেশাগ্রস্ত ছেলে মেয়ের হাতে বাবা মা বা অন্যকেউ খুন হয়েছে। নেশাগ্রস্থ মানুষ দের কোন সেন্স থাকেনা।তারা অনেক সময় নেশার টাকা পয়সা না পেয়ে টাকা পয়সার জন্য অনেকের খুন করে দেয়।বিভিন্ন চুড়ি ডকাতি রাহাজানি তে লিপ্ত হয়। দেশে খুন করার প্রবণতা বেড়ে যায়,বিভিন্ন মানুষের জীবন নষ্ট হয়।সন্ত্রাসী বেড়ে যায়। দেশের প্রশাসন কে সতর্ক হতে হবে।পরিবার সমাজ সবাই কে সতর্ক হতে হবে।

যেহুতু বিভিন্ন দিক থেকে আক্রান্ত হয়ে পড়তেছে সেদিক থেকে মাদকদ্রব্য নিরাময় কেন্দ্র স্থাপন করতে হবে। যেন আক্রান্ত হলেও তার সুষ্ঠ এবং সঠিক সুরক্ষার মধ্য দিয়ে নেশায় আসক্তততা কমানো যায়।

Related Posts