Menu Close

তরুন ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সম্ভ্যাব্য অবস্থা

তরুন ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সম্ভ্যাব্য অবস্থা

তরুণ প্রজন্মের সব চেয়ে বেশি ঝুঁকি আর ক্ষতি হইতেছে। আজকাল কার বাবা -মা বিজি হয়ে যাবার কারণে ছেলে মেয়ের হাতে ফোন তুলে দেয় যেন সে বাহিরে না যায়। যেন সে বাহিরে গিয়ে কোন খারাপ ছেলে মেয়ে বা বদ অভ্যাসি না হয়ে যায়। কিন্তু তারা এইটা অনুধাবন করতে পারেনা যে অন্ততপক্ষে একটা ছেলে বা মেয়েকে দেড় বছর অব্ধি ফোনের সামনে আনা ঠিক না।

যে বয়সে ছেলে মেয়ে কে বই পড়া বা বিভিন্ন সাংস্কৃতিক চর্চা মূলক পড়াশোনা ভাল ড্রয়িং শিখানো দরকার সেখানে বাবা মা ব্যস্ত হবার কারণে ছেলে মেয়ের হাতে ফোন তুলে দেয়।আমার দেখা দুইটা ঘটনা আছে, একজন বাবা মা চাকরিজীবী তার ষোল বছর বয়সি ছেলের হাতে তুলে দিলো ফোন যে বয়সে ভাল লেখাপড়া, শিক্ষা,চর্চা দরকার সেই বয়সে ফোন পেয়ে ছেলেটা সারাদিন ফোন আর ল্যাপটপ নিয়ে পড়ে থেকে গোল্ডেন এ প্লাস টা মিছ করে দিলো। এতে বাবা-মা কারে দোশ দিবে ছেলে মেয়ে কে নাকি নিজেকে।

বর্তমান সমাজে তরুনের অবস্থা

সেদিন এক নিউজ দেখলাম টিভিতে বাবা-মা চাকরি জীবি বা ব্য্যংকার হবার কারণে মেয়ে কি করে তার খবর রাখারা সময় পায় না।কোন এক ছেলের সাথে সোশ্যাল মিডিয়ায় জড়িয়ে পড়ে প্রেমের সম্পর্ক করে শারিরিক ভাবে অযথা কুকর্ম করে তার কিছু ভিডিও তার বিপরিত লোকটা ধরে রাখলো মেয়েটা এক সময় কিছু করতে না পেরে আত্নহত্যা করে দিলো।

এখন কার ছোট ছোট পোলাপান গুলা খাবার খায় আর ফোনে কার্টুন সিরিজ দেখে যা তাদের বয়সের পোলাপানের দেখাই ঠিক না। এক সময় হয় কি একটা রোগে আক্রান্ত হয় মানুষ ভাবে অন্য ভাবে রোগে আক্রান্ত হয়ে গেছে।কিন্তু পরে ডাক্তারের কাছে নেওয়া গেলে জানা যায় যে এই বয়সে তার যেগুলা দেখা যাবেনা সেইগুলা অতিরিক্ত মাত্রাই দেখার কারণে সে অসুস্থ হয়ে গেছে।

এক্ষেত্রে বাবা-মার করনীয়

ভূল গুলা বাবা-মায়ের যে বয়সে বাবা – মা ছেলে মেয়ের হাতে বই পড়া অন্যকিছুর রুটিন তুলে দিবেন সেই সময়ে ঠিক সেই সময়ে হাতে তুলে দেন ফোন বা ল্যাপটপ। এইসবের কারণে অনেকে ঠিক মত খায়না, পড়াশোনা করেনা। ঘুমায় না সব কিছু মিলিয়ে আমার কেন জানি মনে হয় ক্ষতির পরিমান টা নিদারুণ হারে বেড়েই চলেছে।

এখন অতিরিক্ত অনলাইন মুখি হবার কারণে অতিরিক্ত অচেনা এবং অস্বাভাবিক রোগ বেড়ে চলেছে। প্রজন্ম নিয়ন্ত্রণ এবং ভাল শিক্ষা দেওয়ার ক্ষমতা আমাদের হাতে আর তা আমরা দিন দিন অন্যভাবে অন্য শিক্ষা দিয়ে প্রজন্ম কে ভূল শিক্ষা দিয়ে চলেছি প্রতিনিয়ত। বাবা-মা বা ফ্যালিমির উচিত হবে অবশ্যই সন্তানকে সুশিক্ষা দেওয়া, ভাল-মন্দ আলদা করতে শেখানো।

এক্ষেত্রে কম জানা, বা অশিক্ষিত ফ্যামিলি একটু ব্যর্থ হয়। ব্যার্থতার চান্স বেসি। কারণ, সন্তান অল্প একটু পড়া লেখা করার পরই ফ্যামিলির মতামতের বাইরে যেতে থাকে। এটা এড়্রানোর উপায় হচ্ছে অনেক কম বয়স থেকেই এসব বিষয় শিক্ষা দেওয়া।

তরুনের ভবিষ্যত ঝুঁকি

আজকের শিশু আগামি দিনের ভবিষ্যত এটা আমরা জানি এবং মানিও বটে! তবে এই শিশু, তরুনের ভবিষ্যত যে আমরা আমাদের নিজ হাতে নষ্ট করতেছি, সেব্যাপারে খোজ-খবর কি আছে কারো?

একজন মানুষের ভবিষ্যত তার কৃত কর্মের উপর প্রায় সবটাই নির্ভর করে। এই ভবিষ্যত গড়তে গিয়ে যদি আমরা অবহেলা করি, তাহলে তার ফলাফল খারাপ হবে এটাই স্বাভাবিক। সন্তানের খোজ বাবা মা রাখেনা। সন্তান কি করছে, কোথায় আছে অনেক সময় ফ্যামিলি এই বিষয় গুলো জানে না, জানতে চায়ও না। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় সন্তানকে সুশিক্ষা না দিয়েই, বাবা-মা হাতে মোবাইল ফোন ধরে দিয়ে বাইরে পড়া-লেখার জন্য পাঠিয়ে দেয়। যেখানে তাকে নিয়ন্ত্রনের কেউ থাকে না, ভুল-সঠিক বুঝিয়ে বলার কেউ থাকেনা। এরকম একটা সন্তানের ভবিষ্যত কি হবে আইডিয়া করতে পারেন?

একটা সহজ উদাহরন দিলে হয়ত বিষয়টা অনুধাবন করতে পারবেন। এই সন্তানগুলোর অনেকেই কাইন্ড অফ আনকন্ট্রোনেবল এনিমেল  হয়ে যায়।

ধরে নেন একটা পাগলা অন্ধ-বিষাক্ত কুকুরের মত। অনেক ক্ষেত্রেই এরা ভাল-মন্দ আলাদা করতে পারেনা। সুবিচার বোধ থাকে না। সামনে যাকে পাচ্ছে কামড়াচ্ছে, সেটা তার গুরুজন নাকি অন্য কেউ এই বোধটা থাকে না।

এদের ভবিষ্যত অনেক ক্ষেত্রেই অন্ধকার ছাড়া আর কিছুনা। এদের জন্য সমবেদনা, সাথে এদের পরিবারের মানুষের জন্যও।

সবাই ভাল থাকুক আশা করি। কোনো বাবা-মা যেনো তাদের সন্তানদের সুশিক্ষা দিতে ব্যার্থ না হয় এই দোয়া রইলো সবার জন্য।

Related Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *