Menu Close

এন্ড্রয়েড নাকি আইওএস অপারেটিং সিস্টেম? কোনটি সেরা?

এন্ড্রয়েড নাকি আইওএস অপারেটিং সিস্টেম

অপারেটিং সিষ্টেম হচ্ছে ইলেক্ট্রনিক ডিভাইসের প্রাণ। `প্রাণ ছাড়া দেহ যেমন চলতে পারেনা, তেমনি অপারেটিং সিস্টেম ছাড়া মোবাইল চলেনা। বর্তমানে এন্ড্রয়েড এবং আইওএস (Android & IOS) অপারেটিং সিস্টেম দুটি খুবই জনপ্রিয় হইয়ে উঠেছে। আজ আমরা এই দুটি অপারেটিং সিস্টেম এর বিস্তারিত, পার্থক্য, সুবিধা-অসুবিধা নিয়ে আলোচনা করব। আসুন, শুরু করা যাক।

এন্ড্রয়েড পরিচিতি (Introduction Android)

এন্ড্রয়েড অপারেটিং সিষ্টেম ২০০৩ সালে যাত্রা শুরু করে। আসলে এটি তৈরি করা হয়েছিল মূলত ডিজিটাল ক্যামেরার ওএস এর কাজে। পরবর্তীতে তারা মোবাইল ডিভাইসে এন্ড্রয়েড সিস্টেম চালু করে এবং এরপর তাদের আর পেছনে তাকাতে হয়নি।

কিন্তু একসময় পৃথিবীর নামকরা কোম্পানি ‘গুগল’ এই এন্ড্রয়েড অপারেটিং সিষ্টেমটি ২০০৫ সালে কিনে ফেলে। ২০০৭ এর নম্ভেবরে ‘গুগল’ Android 1 beta ভার্সন চালু করে। পরবর্তীতে ২০০৮ এ তারা সর্বপ্রথম এন্ড্রয়েড চালিত মোবাইল T-Mobile G1 বাজারে ছাড়ে। এরপর থেকে তারা একের পর এক ভার্সন বাজারে ছাড়তে থাকে।

বর্তমানে Android 12 beta ভার্সন তাদের সর্বশেষ সংস্করণ। আর হ্যাঁ, এটি একটি ওপেন সোর্স অপারেটিং সিস্টেম।

আইওএস পরিচিতি (Introduction iOS)

২০০৭ এর ২৯ই জুন স্টিভ জবসের মাধ্যমে আইওএস অপারেটিং সিষ্টেম যাত্রা শুরু করে। তাদের সর্বপ্রথম ভার্সন ছিল আইওএস ১.০ এবং সর্বশেষ আইওএস ১৪.০। এন্ড্রয়েড এর পরে এসেও আইওএস অপারেটিং সিস্টেম খুবই জনপ্রিয়তা লাভ করেছে। তারা গ্রাহকের চাহিদা মোতাবেক সবচেয়ে ভাল সার্ভিস প্রদান করে। তাই তারা আজ এই পর্যায়ে এসে পৌছেসে।

ধাপে ধাপে এন্ড্রয়েড ও আইওএস এর খুঁটিনাটি

আশা করি এতক্ষনে অলরেডি এন্ড্রয়েড এবং আইওএস অপারেটিং সিস্টেম সম্পর্কে ধারনা চলে এসেছে আপনাদের। এবার আসুন এবার ধাপে ধাপে আরও খুঁটিনাটি জানা যাক যার দ্বারা খুব সহজেই আপনি এন্ড্রয়েড ও আইওএস এর মধ্যে তফাত এবং মিল ধরতে পারবেন।

ডিভাইস (Device)

এন্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেম যেকোনো স্মার্ট ডিভাইস এ ব্যবহার করা যায়। তাই ডিভাইস ভেদে অপটিমাইজেশনের পার্থক্য চোখে পড়ার মত। এছাড়াও মোবাইল ফোনের মধ্যে স্যামসাং, ভিভো, অপ্পো ইত্যাদি সব রকম ডিভাইসে এন্ড্রয়েড সিস্টেম ব্যবহার করা হয়। অন্যদিকে আইওএস শুধুমাত্র আইফোন, আইপ্যাড, এপল টিভিতে ব্যবহার করা হয়। অর্থাৎ তাদের তৈরিকৃত ডিভাইসেই শুধু আইওএস ব্যবহারযোগ্য।

কাস্টমাইজ (Customize)

এন্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেম এর ডিভাইসে প্রায় সবকিছুই পরিবর্তন সম্ভব। যেমন ধরুন আপনি শাওমি ফোন ব্যবহার করেন। শাওমির সফটওয়্যার ম্যানেজম্যান্ট আপনার ভাল না লাগলে, আপনি কাষ্টম রম ইউজ করতে পারবেন।

এক্ষেত্রে আপনি মোবাইলে আপনার যা ইচ্ছা তাই করতে পারবেন। নিজের তৈরি এপসসহ, যেকোনো এপস ব্যবহার করতে পারবেন। ফোনের ইন্টারফেস ডিজাইন পাল্টাতে পারবেন। অর্থাৎ পুর কন্ট্রোল প্যানেল আপনার হাতেই থাকবে।

অন্যদিকে, আইওএস আপারেটিং সিস্টেমে এসব কিছুই সম্ভব না। তবে অনেকে জেইলব্রকের মাধ্যমে আইওএস এ বিভিন্ন ফাংশন সেট করেন। কিন্তু এটি ঝুকির মধ্যে পড়ে। অনেকসময় জেইলব্রক করতে গিয়ে আইফোন ডেড হয়ে যায়। তাই কাস্টমাইজের ক্ষেত্রে এন্ড্রয়েড এগিয়ে আছে।

উইজেট ও ভাষা (Widget & Language)

এন্ড্রয়েড এ হোমস্ক্রীনে বিভিন্ন উইজেট দেওয়ার সুবিধা থাকে। কিন্তু আইওএস এ কোনোপ্রকার উইজেট দেওয়া যায়না। অন্যদিকে এন্ড্রয়েড এ প্রায় ১০০+ ভাষা আছে, যেখানে আইওএস এ মাত্র ৩৪টি ভাষা বিদ্যমান। তাই এক্ষেত্রেও এন্ড্রয়েড আইওএস থেকে এগিয়ে।

ফাইল আদান-প্রদান (File Transfer)

এন্ড্রয়েড এ খুব সহজভাবে ফাইল আদান-প্রদান করা যায়। একই অপারেটিং সিস্টেমের এক ফোন থেকে অন্য ফোনে সহজেই ফাইল ট্রান্সফার হয়। আর কম্পিউটারে কোনো এপস ছাড়াই ডাটা বা ইউএসবি ক্যাবল দিয়ে ফাইল আদান-প্রদান করা যায়।

আইওএস এ ফাইল ট্রান্সফার খুবই জটিল। আইটিউনস ডেক্সটপ এপ ব্যব্যহার করে ফাইল আদান প্রদান করতে হয়। পাশাপাশি লাইটিং ডাটা কেবল দিয়েও যায়। এক্ষেত্রেও এন্ড্রয়েড এগিয়ে আছে।

এপস ব্যবহার (Using Apps)

এন্ড্রয়েডের মত আইওএস এ বিভিন্ন এপস ব্যবহার করা যায়। তবে এন্ড্রয়েড এর এপসগুলো প্লে-ষ্টোর ছাড়াও যেকোনো জায়গা থেকে ডাউনলোড করা যায়। অন্যদিকে আইওএস এর এপসগুলো শুধুমাত্র এপল-ষ্টোর থেকেই নামানো যায়।

iOS এ বিকল্প এপ ষ্টোর নেই। তাই এপস ব্যবহারে আইওএস সীমাবদ্ধ, এন্ড্রয়েড সীমাহীন। এছাড়াও ফেসবুক, মেসেঞ্জারসহ জনপ্রিয় এপসগুলো দুটো সিষ্টেমেই ব্যব্যহার করা যায়।

এপস নিরাপত্তা (Apps Security)

Android এ এপস নিরাপত্তা iOS থেকে অনেকটা কম। কারণ, এন্ড্রয়েড এ প্লে-ষ্টোর ছাড়াও থার্ড পার্টির মাধ্যমে এপস নামানো যায়। থার্ড পার্টি থেকে এপস নামানোর কারণে অনেক ক্ষেত্রে ভাইরাসের আক্রমণ হয়।

ইন্টারনেট ব্রাউজিং (Browsing Internet) –

এন্ড্রয়েড এ যেকোনো ব্রাউজার (অপেরা, ক্রোম, মজিলা ইত্যাদি) ব্যব্যহার করা যায় ও ডিফল্ট সেট করা যায়।

কিন্তু আইওএস এ শুধুমাত্র Safari ব্রাউজার ডিফল্ট হিসেবে ব্যবহার করা যায়। iOS এ অন্যান্য ব্রাউজারও চালানো যায়, তবে ডিফল্ট হিসেবে নয়।

ব্যাটারি (Battery Life)

এন্ড্রয়েড এর ব্যাটারি অনেকটা বড় ও ক্ষমতাসম্পন্ন হয়। এছাড়াও এন্ড্রয়েড এ ফাস্ট চার্জারের সুবিধা পাওয়া যায়।

অন্যদিকে, iOS এর ব্যাটারি কম ক্ষমতাসম্পন্ন হয়। তবে iOS এর সফটওয়্যার অপটিমাইজেশন নিখুঁত হওয়ার কারণে, ব্যাটারি চার্জ অনেকক্ষন টিকে।

অটোমেটিক ব্যাকআপ (Backup)

এন্ড্রয়েড এ অটোমেটিক ব্যাকআপ এর জন্য রয়েছে গুগল ড্রাইভ ও ফটোস নামের দুটি এপস। ড্রাইভে ফ্রি’তে ১৫ জিবি পর্যন্ত ব্যাকাপ সুবিধা পাওয়া যায়। এছাড়াও এন্ড্রয়েড এ মেমরি কার্ড ইনসার্ট করেও ব্যাকআপ রাখা যায়।

অন্যদিকে iOS এ রয়েছে ফ্রি’তে মাত্র ৫ জিবি ক্লাউড ষ্টোরেজ। এখানে মেমরি কার্ড ইনসার্ট এর কোনো উপায় নেই। বাড়তি ব্যাকআপ চাইলে, টাকার বিনিময়ে ক্লাউড ষ্টোরেজ কিনতে হয়।

নিরাপত্তা (Security)

নিরাপত্তার দিক থেকে এন্ড্রয়েড এর চেয়ে আইওএস অনেকগুণ এগিয়ে। আইওএস তৈরির শুরু থেকেই এর নিরাপত্তার বিষয়টি জনপ্রিয়তা লাভ করেছে।

এন্ড্রয়েড ওপেন সোর্স হওয়াতে নিরাপত্তায় কিছুটা ঘাটতি লক্ষ্যনীয়। তবে প্রতিনিয়ত এন্ড্রয়েড যে আপডেটগুলো আনছে, তা ব্যবহারে প্রায়ই নিরাপদ থাকা যায়। এছাড়াও কাষ্টম রোম ব্যবহারেও হ্যাকার থেকে তথ্য নিরাপদ রাখা যাবে।

রুট, বুটলোডার ও জেলব্রেকিং (Root, Bootloader & JailBreak)

এন্ড্রয়েড এ ইচ্ছেমত সবকিছু নিয়ন্ত্রণ নেওয়া যায়। আর আপনি চাইলে বুটলোডারও আনলোক করতে পারবেন। ফোন রুটসহ যাবতীয় সবকিছু হাতের মুঠোয়।

অন্যদিকে আইওএস এ কোনোকিছুই আপনার ইচ্ছামতো নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন না। সবকিছু iOS নির্মাতাদের কাছে সংরক্ষিত।

বাজার দর (Market Price)

দামের কারণেই অ্যান্ড্রয়েড ও আইওএস ব্যাবহারকারীর মধ্যে বিশাল পার্থক্য। বর্তমানে সর্বনিম্ন ১০০ ডলার থেকে সর্বোচ্চ যেকোনো দামেই পাওয়া যায় অ্যান্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেম বিশিষ্ট স্মার্টফোন।

অন্যদিকে আইফোনগুলো সর্বনিম্ন ৪০০ ডলার থেকে যেকোনো মূল্যের হতে পারে। যার কারণে ব্যবহারকারীর সংখ্যার দিক দিয়ে অ্যান্ড্রয়েড ইউজার অনেকটা এগিয়ে আছে।

সর্বশেষ সংস্করণ (Latest Version)

বর্তমানে Android 12 beta ভার্সন তাদের সর্বশেষ সংস্করণ।
তাদের সর্বপ্রথম ভার্সন ছিল আইওএস ১.০ এবং সর্বশেষ আইওএস ১৪.০।

বিস্তারিত সুবিধা-অসুবিধা

এবার আসুন বিস্তারিত সুবিধা-অসুবিধা সংক্ষেপে জানা যাক।

• মার্কেটে আইওএস চালিত আইফোন প্রতি মূহুর্তে রমরমা বিক্রি হচ্ছে, সেখানে এন্ড্রয়েড স্মার্টফোন আইফোন থেকে একটু পিছিয়ে। তবে অনেকসময় এন্ড্রয়েডও আইফোনকে টেক্কা দিয়ে ফেলে।

• আইফোন কেনার পরই আপনি স্টোরেজের দিক দিয়ে সীমাবদ্ধ হয়ে যাবেন। কারণ আলাদা মেমরি স্লট নেই।
যেখানে অধিকাংশ এন্ড্রয়েড এ মেমোরি কার্ড ব্যবহার করা যায়।

• ফোনের ব্যাটারি যদি ড্যামেজ হয়ে যায়, তাহলে আইফোনের ক্ষেত্রে কাস্টমার কেয়ারে যাওয়া আবশ্যক। আর এন্ড্রয়েড হলে সহজেই ব্যাটারি বদলানো যায়।

• এন্ড্রয়েড এ ইনফ্রারেড সুবিধা থাকায়, আপনি এটিকে Remote Controller হিসেবে ব্যবহার করতে পারবেন, যেটি আইফোনে কখনই সম্ভব না।

• এন্ড্রয়েড এ File Access সিস্টেম একদম সহজ। ফোন কম্পিউটারে কানেক্ট করে সহজেই সবকিছু হয়। কিন্তু অ্যাপল এ জটিল।

• সর্বশেষে যদি ফুল কন্ট্রোল চান, এন্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেম আপনার জন্য সেরা। আর নিরাপত্তা ও স্মুথলি ইউজের জন্য আইওএস সেরা।

আপনি কোনটা ইউজ করেন? এছাড়াও আর কি কি সুবিধা-অসুবিধা পাচ্ছেন?আমাদের কমেন্ট করে জানান।

Related Posts