Menu Close

একটি মেয়ের আত্মকথাঃ মেয়ে কি শুধুই বোঝা পরিবারের জন্য?

একটি মেয়ের আত্মকথা

একটা মেয়ে কে বিয়ে দেওয়া মানে ঝামেলা মুক্ত হওয়া মনে করেন বাবা -মা থেকে শুরু করে বড় বড় মুরুব্বিরা, পাড়া-প্রতিবেশীর মানুষ জন। একটা মেয়ে যদি কোন পরিবারে থাকে সবাই মনে করে মেয়ে টাকে একটু বড় হলেই বিয়ে দিয়ে দিতে হবে। আর তাতেই তাদের প্যারেন্টিংয়ের সকল দায়িত্ব-কর্তব্য শেষ। মেয়েও সুখি হবে; স্বামীর সংসার বলে কথা।

বিশেষ করে গ্রামের মানুষের মতে, মেয়েদের এত পড়ালেখা করিয়েই বা কি লাভ! টাকা ছাড়া না পাবে চাকরি না পাবে অন্য কিছু। বয়স ঢেড় বেশি হয়ে যাবে তখন আর কেউ বিয়ে করতে চাইবে না। তার চেয়ে বরং বিয়ে দিয়েই দেই। মেয়ে মানুষ আর কি বা ভাল করবে আর কি ই বা বাবা-মায়ের দায়িত্ব নিবে। ধূর এরা হল সমাজের বোঝা।বাহিরে পড়তে দিলেও মানুষ নানান কথা বলবে। মেয়ে মানুষ বাহিরে থেকে পড়বে এত টাকা পয়সা খরচ করে আবার একটু বড় হলেই ছেলে পেলে সমস্যা করবে বা কোন দিন না পালিয়ে কোন ছেলের সাথে চলে যায়। তার চেয়ে বরং বিয়ে দিলেই বাবা -মা মুক্ত।

পাড়া প্রতিবেশির খোঁচা

আপনার মেয়ে এত বড় হল তাও বিয়ে দেন না? পরে ভালো ছেলে পাবেন? কারো সাথে পালিয়ে যাবে নাতো? এইরকম আজাইড়া কথার ভয়ে, খারাপ কিছু হবার চিন্তার ভয়ে, মেয়েদের নিজেদের অধিকার বোঝার আগেই বিয়ে দিয়ে দেন। আসলেই কি ঠিক এইসব? বিয়ে দিলে দায়িত্ব শেষ হয়? প্রশ্ন আমার সমাজের কাছে, প্রত্যেকটা বাবা-মায়ের কাছে? আর এই পৃথিবীর মানুষের কাছে, যে তোমরা এত ভূল কেন হে পৃথিবী?

তোমরা কি জানো এই ভূল সিদ্ধান্ত কত মেয়ের জীবন নষ্ট করেছে প্রতিটা দিন? আপনারা কি জানেন কত মেয়ে প্রতিদিন সুইসাইড করে মারা যাচ্ছে শুধু মাত্র আপনাদের অযত্নের কারণে? হ্যাঁ আপনাদের অযত্নের কারণে ছোটবেলা থেকে বুক ভর্তি আশা নিয়ে বড় হওয়া মেয়েটা এক সময় অকালে প্রান হারাচ্ছে।

বিয়ে কি আসলেও এতটা গুরত্বপূর্ন?

হ্যা বিয়ে অবশ্যই গুরত্বপূর্ন, তবে সেটাও বেটার কোনো সিস্টেমের মধ্যে দিয়ে হতে হবে। মা-বাবার কাছে কাউকে ভাল বা পারফেক্ট মনে হয়েছে তার মেয়ের জন্য মানেই যে সেই ছেলেই একমাত্র ছেলে যে তাদের মেয়েকে হ্যাপি রাখতে পারবে, এইটা অনেকটা ভুল ধারণা। আমার মতে অবশ্যই মেয়ের মতামতের, পছন্দ, অপছন্দের গুরত্ব দিতে হবে। এইটা মেয়ে হ্যাপি থাকবে কি থাকবে না তার অন্তরায়!

যদি সন্তান জন্ম দিয়ে সন্তানের জীবন নেবার মতো খেলায় কোনো পরিবার মেতে ওঠে, তাহলে আমার রিকুয়েষ্ট থাকবে যে চাইলে আপনার সন্তান হবার আগেই মেরে ফেলুন।

আপুদের প্রতি রিকুয়েষ্ট

আমার মতে প্রত্যকটা মেয়ের উচিত নিজের পায়ে দাঁড়িয়ে বিয়ে করা। সেল্ফ ডিপেন্ডেন্ট হওয়া যেনো তাকে কেউ সহজে ভাঙ্গতে  না পারে। আর যদি হয় আমার মত ব্রিলিয়ান্ট হওয়ার পর ও যদি দিন দিন মানষিক অত্যাচার সহ্য করে, তবে সব স্বপ্ন গুলা অংকুরেই বিনষ্ট হবে। আর সমাজে আত্নহত্যাকারি মেয়েদের তালিকায় নাম চলে যাবে। কারণ মানষিক অত্যাচার, অপমান আর স্বপ্ন ভঙ্গের তীব্র যন্ত্রনা সহ্য করে বাঁচা যায়না খুব বেশি দিন।

পরিবারের প্রতি রিকুয়েষ্ট

অবশ্যই আপনার সন্তানের মতামতের গুরত্ব দিন। জোর করে কিছু চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করবেন না কোনো ভাবেই। অনেক সময় আপনারা কষ্ট পাবেন ভেবেও সন্তানরা সব কষ্ট নিরবে সহ্য করে যায়।

ব্যাক্তিগত কিছু কথা

আচ্ছা বিয়ে যদি জীবনের এক ও অন্যতম ভাল থাকার পথ হয়, পাপ থেকে বাঁচার’ই পথ হয় তবে আমার জীবন কেন এমন হলো বলতে পারবেন? আমি তো বিয়ে করেছি, কই আমি তো ভাল নেই। আমার ও এখন সুইসাইড করতে মনে চায় কেন? কেন স্বামী’ই যদি জান্নাত হয় তবে সেই জান্নাত’ই কেন আমার দুনিয়ার সুখ কেড়ে নিচ্ছে। দুনিয়ার অক্সিজেন শেষ করে দিচ্ছে যেন আমি তাড়াতাড়ি মারা যাই। কেন?

কেন আমার স্বামি আমাকে দশ মাস না হতেই বলে ছেড়ে দাও আমাকে। মুক্তি দাও আমাকে। কেন আমি তো জানি বাবার পরে অন্যতম দুনিয়া এবং আখিরাতের জন্য পরম শান্তির আশ্রয় তার স্বামী, কিন্ত তবে কেন আমার স্বামী আমাকে রেখে অন্যর কাছে ভাল লাগা খুঁজতে যায়? এখন আমি মানষিক রোগী; না পারি মনযোগ দিয়ে পড়তে না পারি ঘুমাতে। প্রায় সময় মানষিক রোগে ভুগি আমি। প্রশ্ন জাগে মনে আমি’ই কেন?

আমি তো আগে ভাল ছিলাম, মুক্ত পাখির মতো উড়তেছিলাম, নিজের মতো খেতাম, ঘুমাতাম আর শান্তি নিয়ে পড়তাম যখন ইচ্ছা করতো। কিন্তু আজ কেন এমন হলো বিয়ে করে আমার জীবন? স্বামী কে বার বার অনুরোধ করার পর যে আর কিছু না দিলে আমার হাত ধরে থাকো। আমার ইন্সপায়রেশন হও আমি অনেক দূর যেতে চাই বলার পর ও কেন সে আমার সব স্বপ্ন গুলি নিয়ে খেলছে? সবাই আমাকে বলে আপনি এত ব্রিলিয়ান্ট এত ভাল তবুও কেন এমন?

কোন উত্তর দিতে পারিনা, চুপ থাকি, একটু বেশি ই ডিপ্রেশনে চলে যাই। মনে পড়ে যে একদিন আমার জীবনের দায়িত্ব নিবে বলে কথা দিয়েছিল আজ সে আমার জীবন নিতে উঠে পড়ে লেগে গেছে। কথায় কথায় আমাকে অপমান করে আমাকে নিকৃষ্ট প্রমান করে। তার নাকি এখন আর আমাকে ভাল লাগেনা। আমাকে কথায় কথায় ভূল প্রমান করে। এমন এমন অপমান করে যেগুলা আমার শরীরে না মনে না আমার সোজা আত্নসম্মানে লাগে। মাঝে মাঝে তো মনে হয় এই দুনিয়ার মায়া ত্যাগ করি, আসলে অনেক টাইমে মায়া কাজ করেও না, বিন্দুমাত্র ইচ্ছাও করেনা বেঁচে থাকার। তবুও আছি, হয়ত থাকবো শত ব্যথা সহ্য করে!

সবাই অনেক ভাল থাকবেন, কারো ভাল করতে গিয়ে অনেক বেশি ক্ষতি যেনো তার না করে ফেলেন, সেই দিকে অবশ্যই খেয়াল রাখবেন। ধন্যবাদ।

Related Posts