Menu Close

একটি ওয়েবসাইট তৈরির পূর্বে কি কি বিষয় বিবেচনা করা উচিত?

ওয়েবসাইট তৈরির পূর্বে বিবেচনার বিষয়

ওয়েবসাইট হচ্ছে ইন্টারনেটে তৈরি জগত। ইন্টারনেটের আপনার নিজস্ব লেখা, অনলাইন ব্যবসা, বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত সকলের সামনে তুলে ধরার মাধ্যমেই হচ্ছে ওয়েবসাইট। সারা বিশ্বে প্রায় কোটি কোটি ওয়েবসাইট রয়েছে। বিভিন্ন ওয়েবসাইটে বিভিন্ন বিষয় বস্তু রয়েছে।

বাজারে বিভিন্ন দোকানে যেমন বিভিন্ন ধরনের বিভিন্ন জিনিস পাওয়া যায়, ঠিক তেমনি প্রত্যেক ওয়েব সাইটের মধ্যে বিভিন্ন জিনিস পাওয়া যায়। সেটা হতে পারে কোন লেখা, অনলাইনে পণ্য বেচাকেনা বা বিভিন্ন সেবামূলক তথ্য-উপাত্ত।

যদি ভেবে থাকেন যে, আপনি একটি ওয়েবসাইট খুলবেন, তাহলে এই আর্টিকে লটি শুধুমাত্র আপনারই জন্য। আজকের এই আর্টিকেলটি পড়লে আপনি ওয়েবসাইট খোলার আগে কি কি বিষয় বিবেচনা করা উচিত, তার ধারণা পেয়ে যাবেন।

ওয়েবসাইট তৈরির উদ্দেশ্য

লক্ষ্য ছাড়া সঠিক গন্তব্যে পৌঁছানো যায় না। যদি আপনি একটি ওয়েবসাইট তৈরি করতে চান, সবার আগে নিজেকে প্রশ্ন করুন, কেনো ওয়েবসাইট তৈরি করবেন? ওয়েবসাইট তৈরির উদ্দেশ্য কী?

ওয়েবসাইট তৈরির বিভিন্ন উদ্দেশ্য থাকতে পারে। যেমন – কেউ আর্টিকেল লেখার জন্য ওয়েবসাইট তৈরী করে, কেউ পণ্য ক্রয়-বিক্রয়ের জন্য তৈরি করে, আবার কেউ কেউ নিজের নামে ওয়েবসাইট বানায়। বিভিন্ন লক্ষ্য থেকে আপনাকে একটা লক্ষ্য নির্বাচন করতে হবে।

যদি আপনার উদ্দেশ্য থাকে ওয়েবসাইট তৈরি করে ইনকাম করবেন, তাহলে অবশ্যই আপনাকে ভালো মানের রাইটার হতে হবে। কিভাবে একজন ভাল মানের আর্টিকেল রাইটার হবেন? জানতে হলে এখানে ক্লিক করুন।

Website
Website

নিস বা বিষয়বস্তু নির্বাচন

ওয়েবসাইট তৈরির সঠিক উদ্দেশ্য খোঁজার পর, আপনাকে অবশ্যই সঠিক নিস বা বিষয়বস্তু নির্বাচন করতে হবে। ধরুন আপনি আপনার ওয়েবসাইটের লেখালেখি করতে চান, এখন আপনি কোন বিষয়ে ব্লগ লিখবেন তা নির্বাচন করুন। যদি আপনি চান সবকিছু নিয়ে লেখালেখি করবেন, তাহলে শেষে কিছুই করতে পারবেন না। তাই নির্দিষ্ট বিষয়ে ব্লগ লিখলে, আপনার গন্তব্যে পৌঁছাতে সহজ হবে।

আর চেষ্টা করুন এমন নিস নির্বাচন করার, যেখানে ভিজিট এর চাহিদা বেশি থাকবে। আর হ্যাঁ, যদি আপনি লেখালেখি নিয়ে কাজ করেন এবং এসইও করতে পারেন, তাহলে হাই কম্পিটিটর নিস নির্বাচন করুন। এসইও কি এবং কিভাবে করতে হয়, তা জানতে চাইলে আমাদের সাথেই থাকুন।

অথবা ধরুন আপনি আপনার ওয়েবসাইটে পণ্য বেচাকেনা বা অনলাইন সেবা প্রদান করতে চান। তাহলে আপনাকে সেই অনুযায়ী বিষয়বস্তু নির্বাচন করতে হবে। অতএব যা ই করুন না কেনো, নির্দিষ্ট নিস বা বিষয়বস্তু নির্বাচন বাধ্যতামূলক। বিষয়বস্তু নির্বাচন হয়ে গেলে এবার ডোমেইন কেনার পালা…

ওয়েবসাইটের নাম বা ডোমেইন নির্বাচন

আমাদের ওয়েবসাইটের ঠিকানা ………..ডটকম। এখানে……… হচ্ছে ডোমেইন বা ওয়েবসাইটের নাম। আপনার ওয়েবসাইটের নিসের সাথে মিল রেখে, একটি ডোমেইন নাম নির্বাচন করুন।

ধরেন আপনি টেকনোলজি নিয়ে লেখালেখি করতে চান। তাহলে আপনি Technologybd.com ডোমেইনটি নির্বাচন করতে পারেন। অথবা এই নামে কোন ডোমেইন না পেলে, টেক বিডি টুয়েন্টিফোর ডটকম ইত্যাদি খুঁজে দেখতে পারেন।

আপনার বিষয়বস্তুর সাথে মিলিয়ে ডোমেইন নেম নেওয়ার অনেক সুবিধা আছে। প্রথমত পাঠক আপনার ওয়েবসাইটের নাম মনে রাখতে পারবে। দ্বিতীয়ত ওয়েবসাইটের এসইও করতে অনেক সহজ হবে। তাই কখনো উল্টাপাল্টা ডোমেইন নেইম সিলেক্ট করবেন না।

ডোমেইন এক্সটেনশন নির্বাচন

সারা বিশ্বজুড়ে অনেকগুলো ডোমেন এক্সটেনশন আছে। ডোমেন এক্সটেনশন বলতে ওয়েবসাইটের নামের পরে যে .com/.org/.xyz থাকে এসব বোঝায়। কিন্তু আমরা অধিকাংশ মানুষই এক্সটেনশন বলতে .com বুঝে থাকি। তাই ডটকম ডোমেইন এর চাহিদা বেশি।

আপনি আপনার পছন্দমত এক্সটেনশন নির্বাচন করুন। যদি পাঠকদের দ্বারা ওয়েবসাইটের নাম সহজে মনে রাখার কথা ভাবেন, তাহলে .com নির্বাচন করুন। ডোমেইন নেম নির্বাচন হয়ে গেলে এবার ডোমেইন কেনার পালা।

কোথা থেকে ডোমেইন কিনবেন?

সবসময় চেষ্টা করুন নামকরা সাইট থেকে ডোমেইন কেনার জন্য। দেশী বা বিদেশী যেকোনো বিখ্যাত ওয়েবসাইট থেকে ডোমেইন কিনুন। ভুলেও স্বল্পমূল্যে ডোমেইন কেনার লোভে পা দেবেন না। কারণ ডোমেইন নেম মানে আপনার ওয়েবসাইটের পরিচয়। ডোমেইন ঠিক না থাকলে আপনার ওয়েবসাইট তৈরির সব কষ্ট জলে যাবে। ডোমেইন কেনা হয়ে গেলে, এবার হোস্টিং নির্বাচন ও কেনার পালা।

হোস্টিং কি? হোস্টিং কোথা থেকে নিবেন?

হোস্টিং হচ্ছে অনলাইন স্টোরেজ বা ক্লাউড স্টোরেজ। ক্লাউড স্টোরেজ কি? জানতে হলে এখানে ক্লিক করুন। সহজ ভাষায় আপনার ওয়েবসাইটের তথ্য সমূহ যেখানে থাকবে, সেটাই হচ্ছে হোস্টিং। হোস্টিংয়ের মানের ওপর দাম নির্ভর করে।

যদি আপনি লেখালেখি করতে চান, তাহলে সর্বপ্রথম ১/২ জিবি হোস্টিং দিয়ে শুরু করতে পারেন। আর যদি অনলাইন পণ্য কেনা-বেচা বা অন্যান্য ওয়েবসাইট তৈরি করতে চান, তাহলে সেই অনুযায়ী হোস্টিং প্লান কিনুন।

৫ জিবি বা ১০ জিবি মাত্র ১০০ টাকায়… এসব দেখে হোস্টিং কিনবেন না। হোস্টিং স্পিড ও ব্যান্ডউইথ দেখে কিনুন। আর প্রথমে কম পরিমাণে হোস্টিং কিনুন। অযথা বেশি হোস্টিং কিনে টাকা নষ্ট করে লাভ নেই। বাংলাদেশের বিভিন্ন হোস্টিং প্রোভাইডাররা, ভালো মানের হোস্টিং সরবরাহ করে থাকেন।

এছাড়াও বিদেশের অনেক জনপ্রিয় হোস্টিং কোম্পানি রয়েছে। আপনি চাইলে যেকোনো জায়গা থেকেই হোস্টিং কিনতে পারেন। হোস্টিং কেনা হয়ে গেলে, ওয়েবসাইট ডেভলপের পালা…

ওয়েবসাইটের ডিজাইন কেমন হবে?

ইন্টারনেটের প্রায় লক্ষ লক্ষ ডিজাইনের ওয়েবসাইট রয়েছে। সেখান থেকে আপনাকে আপনার ওয়েবসাইটের জন্য ডিজাইন চয়েজ করতে হবে। যেকোনো ধরনের ওয়েবসাইট তৈরী করতে হলে, নির্দিষ্ট প্ল্যাটফর্ম সিলেক্ট করুন। যেমন ব্লগ ওয়েবসাইট তৈরির জন্য ওয়ার্ডপ্রেস বা blogger.com একদম পারফেক্ট।

প্ল্যাটফর্ম সিলেক্ট করার পরে, ওয়েবসাইটের থিম নির্বাচন করুন। যদি আপনি ব্লগ লিখতে চান, তাহলে ভালো মানের একটি ব্লগার থিম নির্বাচন করুন। অথবা যদি আপনি পণ্য কেনাবেচা করতে চান, তাহলে একটি ই-কমার্স থিম চয়েস করুন।

এছাড়াও যদি আপনার আগে থেকে কোন থিম বা ডিজাইন ভালো লেগে থাকে, তাহলে সেটা ডেভলপারকে দেখান। ডেভলপার ওয়েবসাইটের ডিজাইন অনুযায়ী আপনাকে ওয়েবসাইট তৈরি করে দেবে।

আর যদি আপনি নিজেই ওয়েবসাইট তৈরি করতে জানেন, তাহলে নিজেই করে ফেলুন। ওয়েবসাইটের ডিজাইন অবশ্যই সিম্পল রাখার চেষ্টা করুন। ডিজাইন যত বেশি হবে, ওয়েবসাইটের স্পিড তত কমে যাবে। আর ওয়েবসাইটের স্পিড কমে গেলে, ভিজিটর কমে যাবে।

ওয়েবসাইট তৈরির খরচ

একটি পরিপূর্ণ ওয়েবসাইট তৈরি করার জন্য সর্বনিম্ন চার হাজার টাকা থেকে সর্বোচ্চ ডিজাইন অনুযায়ী টাকা প্রয়োজন। আর যদি নিজের ওয়েবসাইট নিজেই ডেভলপ করেন, তাহলে খরচ অনেকটা কমে যাবে।

অবশ্যই একজন ভালোমানের ডেভলপারকে দিয়ে সাইট ডেভলপ করান। সে ক্ষেত্রে টাকা বেশি গেলেও কোন সমস্যা নেই। একটা জিনিস খেয়াল রাখবেন, ভবিষ্যতে ওয়েবসাইটের কোন সমস্যা হলে,
ডেভলপার যেনো আপনাকে সাপোর্ট দিতে পারে ।

ওয়েবসাইট পরিচালনার দক্ষতা ও ধারাবাহিকতা

শুধু ওয়েবসাইট তৈরি করলেই হবে না। নিয়মিত সেখানে পোষ্ট করতে হবে। আর ওয়েবসাইটের বেসিক কিছু বিষয় আপনাকে জানতে হবে। ওয়েবসাইটের টুকিটাকি সমস্যা নিজেই সমাধান করার চেষ্টা করুন।

আগে থেকেই ভেবে রাখুন, আপনার হাতে সময় না থাকলে, কে আপনার ওয়েবসাইটকে পরিচালনা করবে? অনেক সময় দেখা যায় যে কিছুদিন ওয়েবসাইটের চালানোর পর, অলসতা এসে পরে। তখন ওয়েবসাইট কে পরিচালনা করবে? ইত্যাদি বিষয় ভেবে নিন।

আপনার ওয়েবসাইটে সবসময় কনটেন্ট বা প্রোডাক্ট আপলোড করুন। আজকে ১টা আপলোড করলেন, আবার এক সপ্তাহ পর আরেকটা, এভাবে চলতে থাকলে আপনি আপনার ভিজিটর হারাবেন।

ওয়েবসাইটের প্রচার করুন

বাজারে একটি নতুন দোকান খুললে যেমন প্রচার করতে হয়, তেমনি একটি ওয়েবসাইট খুললেও প্রচার করা জরুরি। প্রচার ছাড়া ভিজিটর পাবেন না এবং ভিজিটর ছাড়া ওয়েবসাইটের কোন মূল্য নেই।

ওয়েবসাইট প্রচার করার জন্য আপনাকে ভালোমতো এসইও করতে হবে। পাশাপাশি ফেসবুকে বা অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সাইট প্রচার করতে পারেন।

সর্বশেষ

ওয়েবসাইট থেকে যদি আপনার ইনকামের স্বপ্ন থাকে, তাহলে নির্দিষ্ট পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ করুন। কীভাবে ওয়েবসাইট থেকে ইনকাম করবেন? আসছে শীঘ্রই…

Related Posts