Menu Close

ইন্টারনেট ব্যাবহারের কুফলতা ও ক্ষতিকর দিক

ইন্টারনেট ব্যাবহারের কুফলতা ও ক্ষতিকর দিক

আপনাকে যদি বলা হয়, ত্যাগ করে দিন সোশ্যাল মিডিয়া বা অনলাইন, বিষয়টি আপনি কিভাবে নেবেন? আপনি কেনো! মনে হয়না কেউই বিষয়টা পজেটিভলি নেবে! কিন্তু এখানে ভাবার এবং গুরত্বের বিষয় হচ্ছে, সোশ্যাল মিডিয়ার চেয়ে আপনার বাস্তব জীবন,মনের সুস্থতা, শারিরিক সুস্থতা অনেক দামি আর সবার আগে যেটা দরকার সেটা হচ্ছে ভাল থাকা। আপনি দিন দিন নিজের শারিরিক, মানসিক স্থিরতা, আবেগ অনুভুতি ইচ্ছে এত বেশি সোশাল মিডিয়া ইউজ করার কারণে হারিয়ে ফেলছেন তা জানলে আপনিও চমকে যাবেন খুব বড়সড় ভাবে।

ইন্টারনেট ব্যাবহারের বাস্তবিক ফলাফল

এক জরিপে এটাই দেখা গেছে, সোশ্যাল মিডিয়া বেশি ইউজ করা লোকদের মাদকাসক্ত বা ফেন্সিডিল গ্রহন করা লোকদের সাথে তুলনা করেছেন সাইন্স। আসুন আমি তার প্রমান দেই। একজন ফেন্সিডিল বা ইয়াবা,মাদকাসক্ত অভ্যাস্ত ব্যক্তি এইসব ছাড়া কখনোই থাকতে পারে না পুরো পাগল হয়ে যায় তেমনি একজন সোশ্যাল মিডিয়া বেশি ইউজ করা ব্যক্তি ও এমন।যেমন দুই চার মিনিট পর পর ফোন চেইক করবে যে কেউ মেসেজ বা মেইল দিয়েছে কিনা। এই চেইক করতে গিয়ে ঘন্টার পর ঘন্টা পার করে দেয়।

সোস্যাল মিডিয়া বা ইন্টারনেটের বিরূপ প্রভাব

এইরমম মানুষদের মস্তিষ্ক কে নেশায় এডিকটেড ব্যক্তি দের সাথে তুলনা করা হয়েছে। নেশায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের মস্তিষ্কের সামনের ওয়াইটমেট অংশ টা খেয়ে যাওয়া তেমনি সোশ্যাল মিডিয়া অত্যাধিক ইউজ করা ব্যক্তি দের মস্তিষ্ক ও এমন।পরিক্ষা করে বলেছেন সাইন্স। আর এই সমস্ত মানুষেরা মানুষিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেন মোবাইল এর রেডিয়েশন এর কারণে ধীরে ধীরে। স্মৃতি শক্তি লোপ পেতে থাকে। মানুষের যে আবেগ আছে,অনুভুতি আছে এইসব ও হারিয়ে ফেলে। কারণ অনেক সময় আপনার মনে হয় পকেটে থাকা ফোন টা ভাইব্রেট বা বেজে চলেছে।

আপনি এইটা ভেবে পকেটে হাত দিবেন কিন্তু পরে দেখবেন এইসব কিছুনা। আপনার সুস্থতা হারিয়ে গেছে।মস্তিষ্কের সুস্থতা লোপ পেয়েছে। সাইন্স একে বলেছেন ফ্যান্টম ভাইব্রেট বা ভৌতিক কল। সোশাল মিডিয়া ইউজ করা লোকদের মনযোগ নষ্ট হয়ে যায় ফলে তাদের মেজাজ খিটখিটে হয়ে যায়।যাকে আপনি প্রেমিক পুরুষ বা খুনসুঁটি ময় আবেগি মানুষ সোশাল মিডিয়ার ওপার থেকে দেখবেন বাস্তবে দেখবেন সে একজন রাগী আর বদমেজাজি মানুষ।

মনযোগের ক্ষমতা নষ্ট

মনযোগের ক্ষমতা ভীষণ ভাবেই নষ্ট হয়ে যাইতেছে। অতিরিক্ত সোশ্যাল মিডিয়া ইউজ করা লোকদের সাথে কথা বলতে যান দেখবেন একজন শারিরিক ভাবে সুস্থ,মানসিক ভাবে সুস্থ লোক যেভাবে আপনার সাথে কথা বলবে বা শুনবে অতিরিক্ত সোশ্যাল মিডিয়া ইউজ করা লোকটা আপনার কথা শুনবেনা।খুব বেশি মেজাজ দেখাবে,ছটফট করবে। বা কোন ভাল সিদ্ধান্ত ও আপনাকে দিতে পারবে না। আপনার অনুভুতি গুলা বোঝার বা ফিল করার মত অনুভুতি তার নেই। ক্ষয়ে গেছে।বিশেষ করে উনি যখন কোন ফোন বা ল্যপটপের সামনে বসবে তখন গিয়ে ওনারে কিছু বলে প্রাক্টিকালি কিছু দেখে নিবেন প্রতিক্রিয়া টা ঠিক কেমন হয়। খুব খারাপ প্রতিক্রিয়া পাবেন।তার আচরণ অচেনা মনে হবে।তার আচরণে বুঝতে পারবেন সে অসুস্থ।

সাইবার বুলিং

সাইবার বুলিং হল অনলাইন প্লাটফর্ম টা এখন প্রেমের আড্ডা খানায় পরিণত হয়েছে।অনলাইন করতে গিয়ে এখন বেশি ই বাস্তব জীবনের অনেক কিছু নষ্ট হয়ে যাইতেছে সেদিকে কারো ভ্রুক্ষেপই থাকেনা। একাধিক রিলেশনে না দেখে দেখে জড়িয়ে পড়ে।বিশেষ করে তরুণ সমাজ। আসলে শুধু তরুণ সমাজ বললেই নয় শুধু অনলাইন ইউজ করা প্রত্যকটি বয়সের লোকরাই এমন করছে। ফেইসবুকে খুব চ্যাটিং,ভালবাসা দেখানো এসব ই যখন বাস্তব জীবনে দুজন মুখোমুখি হয় ঠিক তখন ই তার ফলাফল দেখতে পাই। বাস্তব জীবনে এসে দেখা যায় অনলাইনে দুই প্রান্ত থেকে ভালবাসা দেখানো সেই কাপল আর বাস্তবে সামনা সামনি সব কিছুই যেন আলাদা। তখন মন ভেঙে যায়, স্বপ্ন ভঙ্গ হবার কারণে বেশির ভাগ ছেলে মেয়েই একে অপরকে গালি গালাজ থেকে শুরু করে বিভিন্ন কথা বা কাজ করে থাকে তখন খারাপ কিছু ঘটে যায় যেমন এখন অনেকেই আত্নহত্যা করছে এখন।

বিটি আর সি এর রিপোর্ট অনুযায়ি বাংলাদেশে এখন আটকোটি মানুষ ইন্টারনেট ব্যবহার করছে আর ইউনিসেফ এর হিসেব অনুযায়ী প্রতিদিন গড়ে প্রায় তিনজন ইন্টারনেটে আক্রান্ত হবার মধ্য একজন ই শিশু ইন্টারনেটে জড়িয়ে পড়ছে যা খুব হুমকির।

মস্তিষ্কের হ্যালুসিনেশন

চরম আকারে মস্তিষ্কের হ্যালুসিনেশন তৈরি হয়ে যায়। মস্তিষ্কের উপরে পর্দা পরে যায়। আপনার তখন মনে হবে যেটা হয়নি সেটাও হয়ে গেছে।সব কিছু একটা দ্বিধাদন্ধ লাগবে। অন্যরা যা দেখবে না আপনি তা দেখবেন। একটা অস্বাভাবিক অনুভূতি।এইগুলার একমাত্র কারণ হল আপনার মানুষিক এবং শারিরিক অসুস্থততা আর এইগুলা তৈরি হয়ে যাইতেছে আপনার অতিরিক্ত সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করার কারণে।

অবাস্তবমুখি প্রবণতা

মানুষ আর ইন্টারনেট ছাড়া বাস্তব জীবনে মানুষের কথা শুনতে চায়না। কিন্তু ঘন্টার পর ঘন্টা অনলাইনে থেকে অন্যদের সাথে কথা বলছে। ইন্টারনেট হবার কারণে মানুষ এখন একা থাকতে চায়। রিয়েল লাইফে আড্ডার চেয়ে ইন্টারনেটে থাকতে বেশি পছন্দ করে। তাছাড়া বেশির ভাগ মানুষ এখন বিভিন্ন পর্ণগ্রাফি দেখার প্রতি বেশি ই আকৃষ্ট হয়ে গেছে। ব্লু ফিল্ম যা তরুণ সমাজ কে ধংসের দিকে নিয়ে যাচ্ছে চোখের পলকে।

তাছাড়া বিভিন্ন ভার্চুয়াল গেইম খেলায় আসক্ত হয়ে গেছে। এত বেশি আসক্ত হয়ে গেছে যে টাকা দিয়েও অনেকে অনলাইনে গেইমস খেলে।

ইন্টারনেট হ্যাকিং

ইন্টারনেট হ্যাকিং যেন বেড়েই চলেছে। সাইবার ক্রাইম নামে এই ক্রাইম গুলাতে বেশির ভাগই তরুণ। তারা বিভিন্ন উপায়ে আইডি বা বিভিন্ন জায়গায় হ্যাকিং পদ্ধতি চালায়। হ্যাকিং এর পর তারা মোটা অংকের টাকা দাবি করে সমাজ কে আর জাতিকে চরম হুমকির মধ্য পড়তে হইতেছে।

সব মিলিয়ে ইন্টারনেট এর ভাল দিক যেমন তার চেয়ে বেশি খারাপ দিক। এখনকার সাইন্স বলে আপনি ইন্টারনেট ব্যবহার করলে শুধুই আপনি না আপনার পরিবেশ ও দূষণ হয় বলে শোনা যাচ্ছে।

হ্যাঁ ডিজিটাল টাইম মর্ডান টাইম আমরা অবশ্যই ইন্টারনেট ব্যবহার করবো কিন্তু নিজের বা পরিবেশ বা অন্যকিছুর ক্ষতি করে নয়। সব কিছুর একটা সীমাবদ্ধতা আছে সেই সীমাবদ্ধতা লঙ্ঘন করলে প্রকৃতির নিয়ম অনুযায়ি শাস্তি পেতে হবে তাই সীমাবদ্ধতার মধ্য থেকে জীবন এবং জীবিকার তাগিদে আমরা অবশ্যই দেখেশুনে অল্প সময় ইন্টারনেট ইউজ করবো যাতে করে নিজেরা বাঁচি দেশ বাঁচে এবং প্রজন্ম বাঁচে।

Related Posts