Menu Close

আর্টিকেল রাইটিং এর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো কী কী?

আর্টিকেল রাইটিং

আর্টিকেল এর অর্থ হচ্ছে কনটেন্ট। আমরা কোনো A, An, The আর্টিকেল এর কথা বলছি না। সার্চ ইঞ্জিনের যে কোনো শব্দ বা বাক্য সার্চ করলে যে তথ্যগুলো ভেসে আসে, সেগুলি হচ্ছে এক একটি আর্টিকেল। সার্চ ইঞ্জিন কি ও কিভাবে কাজ করে জানতে হলে এখানে ক্লিক করুন।

আর্টিকেল বা কনটেন্ট লিখতে হলে এ সম্পর্কে আমাদের অনেক কিছু জানতে হবে। কারণ যতই দিন যাচ্ছে, ইন্টারনেটে আর্টিকেলের পরিমাণ বেড়েই চলছে। আর একজন পাঠক সেই কনটেন্ট পড়তে ইচ্ছুক হবে, যেখানে সব কিছু সাজানো-গোছানো, নিখুঁত এবং নির্ভুলভাবে দেওয়া আছে। কারণ, ওয়েব সাইট বানানোর পরের স্টেপই হচ্ছে আর্টিকেল।

Article writing

তাই আর্টিকেল লিখতে হলে অবশ্যই আপনাকে প্রফেশনালভাবে এই কাজটি রপ্ত করতে হবে। পাঠকের মনের গহীনে ঢুকে যেতে হবে। পাঠক কি চায় সেটা বুঝতে হবে। যেমন-তেমন আর্টিকেল লিখে পাঠকের মন জয় করা অসম্ভব।

একজন প্রফেশনাল আর্টিকেল রাইটার দেখা কিভাবে হবেন?

একটি আদর্শ মানের আর্টিকেল লেখার জন্য আপনাকে প্রচুর স্টাডি করতে হবে। আর আপনি যদি একজন সাহিত্যিক হয়ে থাকেন, তাহলে কনটেন্ট লেখা আপনার জন্য একদম সহজ। অর্থাৎ সর্বপ্রথম কাজ হচ্ছে প্রচুর বাংলা সাহিত্য পড়া। আর বাংলা সাহিত্যে কেউ একদিনে রপ্ত করতে পারেনা। রোজ অল্প অল্প করে বাংলা সাহিত্য আয়ত্ত করতে হয়।

বাংলা পড়ার পাশাপাশি, আপনি যে বিষয়টি পড়বেন সে বিষয়টি লিখতে হবে। আর লেখার বানান শুদ্ধ ও ভাষা সহজ-সাবলীল হতে হবে। কারণ কোনো পাঠক ভুল বানান, জটিল বাক্য পড়তে চায় না। অর্থাৎ যে বিষয়টি পড়বেন মন দিয়ে পড়বেন এবং নিজের ভাষায় লিখবেন। বেশি বেশি পড়ালেখা আপনাকে প্রফেশনাল হিসেবে গড়ে তুলবে।

একজন প্রফেশনাল আর্টিকেল রাইটার এর চাহিদা কেমন?

বর্তমান বাজারে প্রফেশনাল কনটেন্ট রাইটারের প্রচুর চাহিদা। তবে বাংলা ভাষার চাইতে যদি আপনি ইংরেজি ভাষা আর্টিকেল লেখা রপ্ত করতে পারেন, তাহলে আপনি প্রতিটি আর্টিকেলের বিনিময়ে সর্বনিম্ন ৫০০ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ২ হাজার টাকা বা তারও বেশি অর্জন করতে পারবেন।

যদি বাংলা আর্টিকেল ভালোভাবে লিখতে পারেন তাহলে সর্বনিম্ন ৫০ টাকা সর্বোচ্চ ২/৩০০ টাকায় বিক্রি করতে পারবেন। তাহলে সবার আগে আপনাকে প্রফেশনাল আর্টিকেল রাইটার হতে হবে।

এসব ছাড়াও প্রফেশনালভাবে আর্টিকেল লিখতে হলে কিছু নিয়ম-কানুন আছে। সেগুলো আমি নিচে সংক্ষেপে বলছি। মন দিয়ে পড়ুন, তাহলে অবশ্যই আপনি একজন প্রফেশনাল আর্টিকেল রাইটার হতে পারবেন ইনশাআল্লাহ্‌।

আর্টিকেল রাইটিং এর জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় গুলো কি কি?

আর্টিকেল রাইটিং এর জন্য সব থেকে গুরত্বপূর্ন বিবেচনার বিষয় গুলো সম্পর্কে নিচে আলোচনা করা হলো। নিচের বিষয় গুলো স্টেপ বাই স্টেপ ফলো করুনঃ

টপিক নির্বাচন করুন

আপনি যে বিষয়ে আর্টিকেল লিখতে চাচ্ছেন সেই বিষয়টি আগে নির্বাচন করুন। ইন্টারনেট সেই বিষয়টি জানার চাহিদা কেমন, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।

পাশাপাশি সে বিষয়টি সম্পর্কে আপনার প্রচুর ধারণা থাকতে হবে। কারণ ধারণা না থাকলে সেই বিষয় সম্পর্কে আপনি লিখতে পারবেন না।

যদি আপনার সে বিষয় সম্পর্কে কিছুটা ধারনা থাকে তাহলে ইন্টারনেটের বিভিন্ন ওয়েবসাইট বা ইউটিউব থেকে নির্দিষ্ট টপিক সম্পর্কে আরো ধারণা নিয়ে নিন।

ধারণা নেওয়ার সময় বুঝে-শুনে ধারণা নেবেন। কোনোকিছু মুখস্থ করতে যাবেন না। অন্যেরটা হুবহু লিখলে আপনি কপিরাইট এর আওতায় পড়বেন। অর্থাৎ পুরো আর্টিকেল লেখা আর না লেখা এক সমান হয়ে যাবে। তাই যেকোনো বিষয়ে আত্মবিশ্বাসের সাথে লিখুন।

পাঠকদের কথা চিন্তা করুন

একজন প্রফেশনাল আর্টিকেল রাইটার হতে হলে, অবশ্যই তার পাঠকদের কথা ভাবতে হবে। যেকোনো কনটেন্ট লেখার সময় পাঠকের মনের ভেতরে ঢুকে যেতে হবে।

তারপর আপনি যে টপিক নিয়ে লিখছেন, সেই টপিকের উপর আপনাকে মূল ফোকাস করতে হবে। হুদাই আজাইরা বাড়তি লেখালেখি পাঠকের বিরক্তির কারণ হতে পারে।

আপনি আপনার আর্টিকেল ২০০ বা ২০০০ শব্দ-এ লিখুন, সেটা কোনো ব্যাপার না। মূল ব্যাপার হচ্ছে আপনি আপনার আর্টিকেল এর মধ্যে দিয়ে যাতে পাঠকের প্রশ্নের ঠিকঠাক উত্তর দিতে পারেন সেটাই। এমনভাবে কোনো কন্টেন লিখবেন, যাতে মনে হয় যে পাঠক এবং আপনি কথা বলছেন।

গবেষণা করুন

আপনি যে বিষয় সম্পর্কে লিখেছেন সে বিষয়ে গবেষণা করে নতুন কিছু বের করুন। অন্যান্য লেখকদের থেকে আপনার লেখায় ভিন্ন কিছু আনুন। একজন পাঠক কেনো আপনার লেখা পড়বে সে বিষয়টি বের করুন। যখনই আপনার লেখায় নতুন কিছু আসবে, তখনই পাঠকের মনে আপনার লেখা পড়তে আগ্রহ জাগবে। তাই টপিক সম্পর্কে বেশি বেশি গবেষণা করুন।

যেকোনো বিষয় সম্পর্কে গবেষণার সবচেয়ে মজার দিক হচ্ছে, সে বিষয় সম্পর্কে আপনিও অনেককিছু জানতে পারবেন এবং পাঠকেও জানাতে পারবেন। আর হ্যাঁ, গবেষণার জন্য সবচেয়ে বিশ্বাসযোগ্য সোর্সগুলো নির্বাচন করুন। যেমন – উইকিপিডিয়া, বিভিন্ন নামকরা ওয়েবসাইট বা ইউটিউব চ্যানেল ইত্যাদি।

পয়েন্ট সাজিয়ে নিন

একটি ভাল মানের কনটেন্ট লিখতে হলে, সবার আগে সে কনটেন্টের কি কি পয়েন্ট আনা যায় সেগুলো নির্বাচন করুন। পয়েন্ট ছাড়া হ-য-ব-র-ল আর্টিকেল কোনো পাঠকই পড়তে চাইবে না। যেমন আমি এখন যে আর্টিকেলটি লিখছি, সেখানেও কিন্তু আমি পয়েন্ট আকারে সবগুলো সাজিয়ে লিখছি।

যদি আমি হ-য-ব-র-ল ভাবে সবগুলো একসাথে লিখতাম, তাহলে হয়তো আপনাদের পড়তে তেমন উৎসাহ লাগতো না।

আর যখনই আপনি পয়েন্টগুলো নির্বাচন করে ফেলবেন তখন আপনার লিখতে সুবিধা হবে।
তাই আর্টিকেল লেখার জন্য অবশ্যই পয়েন্ট নির্বাচন করতে হবে।

ইন্ট্রো লেখুন

যারা প্রফেশনাল কনটেন্ট রাইটার, তারা অবশ্যই তাদের আর্টিকেল ইন্ট্রো দিয়ে শুরু করে। আর ইন্ট্রো সাধারণত ২০০ থেকে ৩০০ শব্দের ভেতরই সীমাবদ্ধ হয়। ইন্ট্রো বলতে বোঝায়, আর্টিকেল এর মধ্যে কি কি থাকবে এবং আর্টিকেলের লেখা কেমন হতে যাচ্ছে?

আপনাকে অবশ্যই ইন্ট্রো দিয়ে পাঠকের মন কেড়ে নিতে হবে। যদি আপনার ইন্ট্রো আকর্ষণীয় হয়, তাহলে পাঠক আপনার লেখা সম্পূর্ণ পড়তে আগ্রহী হবে। ইন্ট্রোতে এমন কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য রাখুন, যা অন্যরা রাখেনা। মূল কথা হচ্ছে টপিক নির্বাচন ও গবেষণার পরে আপনাকে একটি আকর্ষণীয় ভালো মানের ইন্ট্রো দিয়ে আর্টিকেল লেখা শুরু করতে হবে।

হেডিং, টাইটেল, প্যারা ব্যবহার করুন

আপনার লেখার মধ্যে বিভিন্ন হেডিং ও টাইটেল ব্যবহার করুন। হেডিং ও টাইটেল ব্যবহার করলে পাঠকের কাছে লেখাগুলো বুঝতে সুবিধা হয়। আর হেডিং বা টাইটেল এর মধ্যে আকর্ষণীয় ও গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলো রাখুন। অগোছালো হেডিং বা টাইটেল পাঠকের বিরক্তির কারণ হতে পারে।

আপনি আমার লেখাটা পড়লে বুঝতে পারবেন আমি কিভাবে হেডিং ব্যবহার করেছি। হেডিং ও টাইটেলের পাশাপাশি আপনার লেখাগুলো ছোট ছোট প্যারা আকারে লিখুন। ছোট ছোট প্যারা আকারে লেখা পড়তে খুবই ভাল লাগে।

সিম্বল ব্যবহার করুন

আপনার লেখার মাঝে যে ছোট প্যারাগ্রাফগুলো তৈরি করবেন, সেখানে বুলেট সিম্বল বা বিভিন্ন রকমের আকর্ষণীয় চিহ্ন ব্যবহার করুন। সিম্বল ব্যবহার করলে, আপনার লেখাকে অনেকটা আকর্ষণীয় লাগবে এবং পাঠকেরও পড়তে সুবিধা হবে। তবে অতিরিক্ত সিম্বল ব্যবহার থেকে সচেতন থাকুন। যেখানে যেটা প্রয়োজন শুধু সেটাই ব্যবহার করুন।

ছবি ব্যবহার করুন

লেখার মাঝে মাঝে বিভিন্ন আকর্ষণীয় ছবি ব্যবহার করুন। আর ছবিগুলা অবশ্যই লেখা সম্পর্কে দিলে ভালো হয়। ছবি আপনার লেখাকে অনেকটা আকর্ষণীয় করে তুলবে। ছবিতে যেনো লেখা প্রাণ ফিরে পায়। এসইও করার জন্য ছবিতে ALT টেক্সট ব্যবহার করতে পারেন। এসইও করে কিভাবে লিখতে হয়, তা আমরা পরবর্তী পর্বে বিস্তারিত আলোচনা করব ইনশাআল্লাহ্‌।

লেখার সাইজ, কালার ইত্যাদি ঠিক রাখুন

যেকোনো ওয়েবসাইটে আপনার লেখাটির সাইজ যেন মিডিয়াম হয় এবং লেখার ফন্ট যেনো আকর্ষণীয় হয়, সে ব্যাপারে নজর রাখুন। আবার অনেক সময় দেখা যায় যে, কোন কোন ওয়েবসাইটের লেখার কালার হালকা হয়ে থাকে। যা অনেক পাঠকের বিরক্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

তাই লেখাগুলো আপনার ইচ্ছামত গাঢ় কালো করার চেষ্টা করুন। অথবা আপনি আপনার ওয়েবসাইটে একটি শর্টকাট রাখুন, যাতে পাঠক তার ইচ্ছামত ফন্ট-ছোটবড়লেখা-কালার চেঞ্জ করে লেখাটি পড়তে পারে।

লেখায় বৈচিত্র্য আনুন

শুধু যে আপনি টপিকের উপর ফোকাস করে লিখবেন, এমনটা নয়… লেখার ফাঁকে ফাঁকে হালকা মজা আনুন। মজা ছাড়া লেখা পড়তে একঘেয়েমি চলে আসে। আর হ্যাঁ, টপিক এর মধ্যে মজার রাখার চেষ্টা করুন। ভিন্ন বিষয়ে অতিরিক্ত মজা পাঠকের মনোযোগ নষ্ট করে দেয়।

সারসংক্ষেপ

উপরে আমি যে বিষয়গুলো বলেছি, সে বিষয়ে নজর দিন এবং প্রচুর পরিমাণে বাংলা সাহিত্য পড়ুন। ‘প্র্যাক্টিস মেকস আ ম্যান পারফেক্ট’। তাই নিয়মিত লিখুন। নিয়মিত লিখতে লিখতে একদিন অনেক বড় মাপের একজন রাইটার হয়ে যাবেন। আর বর্তমানে ইন্টারনেট জগতে একজন ভালো রাইটারের অনেক কদর।

ভালো রাইটার হিসেবে যদি ক্যারিয়ার গড়তে চান, নিজের বা অন্যের ওয়েবসাইটে লিখে ইনকাম করতে চান, তাহলে আপনার জন্য এসইও ফ্রেন্ডলি এবং ওয়েবসাইটে লেখালেখির টেকনিক আমরা এর পরবর্তী পর্বে আলোচনা করব ইনশাআল্লাহ্‌।

আমাদের আজকের পর্ব ভালো লেগে থাকলে, কমেন্ট করে জানাবেন এবং কোনোকিছু না বুঝলে সেটাও জানাবেন। আজ এই পর্যন্তই, বেশি বেশি পড়ুন এবং লিখুন। আল্লাহ হাফেজ।

Related Posts