Menu Close

অনলাইন ডাটা স্টোরেজ কি এবং এটি কিভাবে কাজ করে?

অনলাইন ডাটা স্টোরেজ

অনলাইন ডাটা স্টোরেজ সম্পর্কে হয়তো আমরা অনেকেই জানি। আবার হয়তো অনেকেই জানিনা। সাধারণত স্টোরেজ বলতে আমরা বুঝি কোনো কিছু জমা রাখার জায়গা বা স্থান। আর অনলাইন স্টোরেজ হচ্ছে যেখানে আমরা আমাদের বিভিন্ন ছবি, ভিডিও বা সফটকপি অনলাইনে জমা রাখি। অনলাইন স্টোরেজের কোনো বাস্তব অস্তিত্ব নেই।

আমরা যেকোনো তথ্য রাখতে হলে মেমোরি কার্ড, পেনড্রাইভ বা হার্ডডিস্ক ব্যবহার করি। সেগুলো আমরা সামনাসামনি দেখতে ও ধরতে পারি। কিন্তু অনলাইন স্টোরেজ দেখা যায় না। তবে আমরা এর সর্বোচ্চ সুবিধা আমরা নিতে পারি।

অনলাইন স্টোরেজকে ক্লাউড স্টোরেজ বা ক্লাউড কম্পিউটিংও বলা হয়ে থাকে।

ক্লাউড কম্পিউটিং বা ক্লাউড স্টোরেজ শব্দটি কোথা থেকে এসেছে?

ক্লাউড অর্থ হচ্ছে মেঘ বা মেঘাচ্ছন্ন। আমরা ক্লাউড কম্পিউটিং এর ছবি বা লোগো দেখে বুঝতে পারি যে, মেঘ থেকেই ক্লাউড কমপিউটিং এর ধারণাটি এসেছে।

আচ্ছা মেঘ কিভাবে সৃষ্টি হয়? বলুন তো…! সূর্যের তাপে জলীয়বাষ্প বিভিন্ন জায়গা থেকে উড়ে গিয়ে আকাশের এক জায়গায় জমা হয়ে মেঘ সৃষ্টি হয়। তারপর ঐ মেঘ থেকে বৃষ্টি হয়। সেই বৃষ্টি নির্দিষ্ট এলাকার সবাই পায়। ক্লাউড কম্পিউটিং বা ক্লাউড স্টোরেজ অনেকটা একই রকম।

ক্লাউড স্টোরেজের ব্যাখ্যা ও উদাহরণ

অনলাইন স্টোরেজ মেঘের মতো বিভিন্ন জায়গা থেকে তথ্য-উপাত্ত বা ডিজিটাল কনটেন্টগুলো এক জায়গায় গিয়ে জমা হয়। তারপর বৃষ্টির মতো নির্দিষ্ট এলাকা থেকে নির্দিষ্ট লোকজন সে কনটেন্টগুলো সংগ্রহ করে। সহজ ভাষায় অনেকগুলো ইন্টারনেট সংবলিত কম্পিউটার বা ডিভাইস মেঘের মতো কানেক্ট থাকে।

যদি বইয়ের ভাষায় বলি, ক্লাউড কম্পিউটিং হলো একগুচ্ছ রিমোট সার্ভারের কম্পিউটার রিসোর্স। হার্ডওয়ার, সফটওয়্যার, ইন্টারনেট সংযোগ ইত্যাদি ব্যবহার করে ইন্টারনেটের মাধ্যমে বিভিন্ন সার্ভিস প্রদান করাকে ক্লাউড কমপিউটিং বলে।

আসুন, এবার কিছু উদাহরণের মাধ্যমে বোঝানো যাক।

আমাদের সবারই ফেসবুক, জিমেইল বা টুইটার একাউন্ট আছে। ফেসবুকে বা টুইটারে আপনি বিভিন্ন সময় বিভিন্ন স্ট্যাটাস দেন। আর আপনি এই স্ট্যাটাসগুলো ডিলেট না করা পর্যন্ত সেগুলো অপরিবর্তিত থাকে। কিন্তু একবারও কি ভেবে দেখেছেন যে, এসব কনটেন্টগুলো কোথায় গিয়ে জমা থাকে?

এসব কনটেন্ট তো আর আপনার মেমোরী কার্ডে জমা থাকে না। তাহলে এসব নিশ্চয়ই অনলাইন স্টোরেজে জমা থাকে। কিন্তু এসব ডাটাগুলো কোথায় কোন দেশের কম্পিউটারে জমা হয়, বলুন তো?

পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে এসব সার্ভিস প্রদানকারী কোম্পানিগুলোর ব্যাপক পরিমাণে সার্ভার রয়েছে। সেসব সার্ভারের মাধ্যমে সার্ভিস প্রদানকারী কোম্পানিগুলো ক্লায়েন্টদের সেবা প্রদান করে থাকে। আর এটাই হচ্ছে ক্লাউড কম্পিউটিং বা ক্লাউড স্টোরেজ।

অনলাইন স্টোরেজ ফ্রি নাকি পেইড?

অনলাইন স্টোরেজ সার্ভিসগুলোর মধ্যে কিছু সার্ভিস আমরা বিনামূল্যে পেয়ে থাকে। যেমন – ফেসবুক, টুইটারে ফটো বা ভিডিও আপলোড করলে আমাদেরকে কোনো ফি প্রদান করতে হয় না। তারপর গুগোল ড্রাইভ, মেগা, ওয়ানড্রাইভ, ড্রপবক্সেও আমরা ১০ থেকে ১৫জিবি পর্যন্ত ফ্রি সেবা পেয়ে থাকি।

যদি আমরা এর চেয়ে বেশি স্টোরেজ নিতে চাই, তাহলে অবশ্যই আমাদেরকে অর্থের বিনিময় নিতে হবে।

বেশিরভাগ ক্লাউড কম্পিউটিং সার্ভিসই পেইড সার্ভিস হয়ে থাকে। যেমন, আপনি যে এই লিখাটি আমাদের ওয়েবসাইটে পড়ছেন, তার জন্য প্রতিবছর আমরা একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা ক্লাউড কম্পিউটিং সার্ভারকে জমা দেই। কারণ, আমাদের ওয়েবসাইটে সকল ছবি ভিডিও এবং কন্টেট অনলাইন স্টোরেজে জমা রয়েছে।

ক্লাউড কম্পিউটিং এর প্রকারভেদ

ক্লাউড কম্পিউটিং পদ্ধতি কে সাধারনত তিন ভাগে ভাগ করা যায়। সেগুলো হলো – পাবলিক ক্লাউড, প্রাইভেট ক্লাউড এবং হাইব্রিড ক্লাউড। আবার ক্লাউড কম্পিউটিং এর সার্ভিস মডেলকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়। সেগুলো হলো Saas, Paas, Iass.

Saas হচ্ছে Software As A Service

অর্থাৎ সফটওয়্যার ভিত্তিক সেবা। এই সেবার মধ্যে গুগোল ড্রাইভ, ওয়ানড্রাইভ, ড্রপবক্স, মেগা এগুলো উল্লেখযোগ্য। আমরা যারা সাধারণ ব্যবহারকারী আছি, তাদের জন্য এই স্টোরেজ। ধরুন আপনার কোনো গুরুত্বপূর্ণ ছবি বা ডকুমেন্ট আছে, যা নষ্ট হয়ে গেলে আপনার অনেক বড় ক্ষতি হয়ে যাবে। আর আমাদের মোবাইলের মেমোরি কার্ড তো নষ্ট হওয়া স্বাভাবিক।

যেকোনো সময় মোবাইলের মেমোরি কার্ড বা হার্ডডিক্স ডেমেজ হতে পারে। সমাধান একটাই। আমরা যদি আমাদের গুরুত্বপূর্ণ ডকুমেন্টগুলো গুগোল ড্রাইভ বা অন্যান্য সফটওয়ারের জমা রাখি, তাহলে আমরা সেগুলো পৃথিবীর যেকোনো জায়গা থেকে ডাউনলোড করতে পারব।

আর Saas এর সার্ভিস এগুলো অধিকাংশই ফ্রি হয়ে থাকে। যদি আপনি লিমিটের চাইতে আরও বেশি কিছু অনলাইন স্টোরেজে রাখতে চান, তাহলে অবশ্যই আপনাকে একটি মূল্য পরিশোধ করতে হবে।

Paas হচ্ছে Platform As A Service.

অর্থাৎ এটি একটি প্ল্যাটফর্মভিত্তিক সেবা। এই মডেলে ভার্চুয়াল মেশিনগুলোকে ভাড়া না দিয়ে, ভাড়া দেওয়া হয় কম্পিউটার প্ল্যাটফর্মগুলোকে। যার মধ্যে থাকে প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ ডাটাবেজ, ওয়েব সার্ভার ইত্যাদি। এইসব প্ল্যাটফর্মের নির্দিষ্ট স্টোরেজ যেকেউ ভাড়া নিতে পারবে।

সহজভাবে উদাহরণ দিতে গেলে, আমাদের এই ওয়েবসাইটটি চালানোর জন্য একটি অনলাইন সার্ভার প্রয়োজন। যদি আমরা নিজেরা Paas এর অনলাইন স্টোরেজ প্লাটফ্রম তৈরি করতে চাই, তাহলে অনেক খরচ পড়বে।

তাই আমরা কি করেছি? যারা এরকম প্ল্যাটফর্ম এর সেবা প্রদান করে, আমরা তাদের থেকে সার্ভার ভাড়া করে চালাচ্ছি।

Iaas হচ্ছে Infractures As A Service.

অর্থাৎ এর অর্থ হচ্ছে অবকাঠামোগত সেবা। যেখানে আপনি ভার্চুয়াল মেশিনে নিজের ইচ্ছামত অপারেটিং সিস্টেম ইন্সটল করে, নিজের ইচ্ছামত অ্যাপ্লিকেশন বা সফটওয়্যার চালাতে পারবেন। যেমন – Amazon Ec2.

এসব ছাড়াও আরো অনেকগুলো মডেল রয়েছে Cloud Computing এর।

ক্লাউড স্টোরেজ কীভাবে কাজ করে বা কীভাবে ব্যবহার করবেন?

অনলাইন স্টোরেজ ব্যবহারের জন্য সবার আগে আপনাকে একটি অ্যাকাউন্ট করতে হবে। একাউন্ট করার পর, আপনি সেখানে আপনার প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট ফাইল আপলোড করবেন। আপলোড করার পর যে কোনো মোবাইল বা কম্পিউটার থেকে যেকোন জায়গা থেকে আপনারা সেই ফাইলগুলো দেখতে বা ডাউনলোড করতে পারবেন। আপনি চাইলে যেকোনো সময় আপনার যেকোনো ফাইলকে ডিলিট করে দিতে পারবেন।

ক্লাউড স্টোরেজের সুবিধা

ক্লাউড স্টোরেজ ব্যবহারের সবচেয়ে বড় সুবিধা হচ্ছে ডাটা সুরক্ষা। আপনার ডাটা ক্লাউড স্টোরেজের রাখার পর, মেমোরি কার্ড নষ্ট হয়ে গেলে কোনো চিন্তা থাকবে না। কারন আপনার ডাটা ক্লাউড স্টোরেজের সুরক্ষিত আছে।

এখানে খরচ কম। ধরুন, আপনার কোনো বিশেষ তথ্য রাখার জন্য 32 জিবি মেমোরি কার্ড কিনতে গেলে ৩০০ টাকা খরচ হবে। কিন্তু আপনি যদি অনলাইন স্টোরেজ ব্যবহার করেন, তাহলে আপনি ফ্রিতে বা খুবই স্বল্প খরচে তা ব্যবহার করতে পারবেন।

ক্লাউড স্টোরেজের অসুবিধা

এখানে ইন্টারনেট সংযোগ অবশ্যই লাগবে। সাধারণত মেমরিতে যেকোনো ফাইল এক্সেস করতে গেলে কোনো ইন্টারনেট কানেকশন প্রয়োজন হয় না। কিন্তু ক্লাউড স্টোরেজের এক্সেস পেতে হলে অবশ্যই আপনার ইন্টারনেট কানেকশন থাকতে হবে। আমরা যারা এমবি কিনে ব্যবহার করি তাদের জন্য এটি খুবই ব্যয় সাপেক্ষ।

ক্লাউড স্টোরেজের সবচেয়ে বড় অসুবিধা হচ্ছে হ্যাক হয়ে যাওয়া। যদি কখনো অ্যাকাউন্ট হ্যাক হয়ে যায়, তাহলে আপনার সব তথ্য-উপাত্ত অন্যের হাতে চলে যাবে। অর্থাৎ এখানে আপনার নিরাপত্তাজনিত ব্যাপার আছে। আর হ্যাঁ, সাধারণত এই হ্যাকিং কেউ সহজে করতে পারেনা।

আর আপনি যদি শক্তিশালী পাসওয়ার্ড এবং আরও বিভিন্ন নিরাপত্তাজনিত ফাংশন চালু করে রাখেন, তাহলে হ্যাক হওয়ার সম্ভাবনা একদমই নেই।

বিশেষ টিপস

আমি আপনাকে পরামর্শ দেবো, বিভিন্ন ক্লাউড সার্ভারে একাউন্ট করে ইউজ করুন। ধরুন আপনার পাঁচটি ক্লাউড সার্ভারের পাঁচটি অ্যাকাউন্ট আছে। প্রত্যেকটি সার্ভার থেকে আপনি যদি ১০ জিবি করে ফ্রি স্টোরেজ পান, তাহলে আপনি মোট ১০০ জিবি স্টোরেজ পেয়ে যাচ্ছেন।

আমরা যারা সাধারন মানুষ আছি, তাদের জন্য স্টোরেজ কিনে ব্যবহার করা সম্ভব না। আপনার এই নিজা টেকনিকটি অবলম্বন করতে পারেন।

সর্বশেষ

আজ আমরা ক্লাউড স্টোরেজ বা অনলাইন স্টোরেজ নিয়ে অনেক কিছু জেনেছি। এরপরও ক্লাউড স্টোরেজ সম্পর্কে আপনার যদি কোনো ছোটখাটো প্রশ্ন থাকে, তাহলে আমাদেরকে কমেন্ট করে জানান।

Related Posts